জুলাই আন্দোলনের ‘ইনডেমনিটি’ বহাল থাকবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা অনুসরণ করেই সরকার সিদ্ধান্ত নেবে এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া যোদ্ধাদের দেওয়া ‘ইনডেমনিটি’ বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বহুল আলোচিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং এর অংশগ্রহণকারীদের আইনি সুরক্ষা নিয়ে সরকারের অবস্থান এবার পরিষ্কার করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, এই আন্দোলনের মূল চেতনা ও জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখেই সরকার ভবিষ্যতের সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অংশ নেওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের যে দায়মুক্তি বা ‘ইনডেমনিটি’ দেওয়া হয়েছে, তা সরকার বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত শুধু রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়, বরং একটি বৃহত্তর জাতীয় বাস্তবতা ও আন্দোলনের প্রেক্ষাপটকে মাথায় রেখেই নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের প্রতি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক এবং তাদের অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই।”
বিশ্লেষকদের মতে, ‘ইনডেমনিটি’ বা দায়মুক্তি প্রশ্নটি সবসময়ই সংবেদনশীল। একদিকে এটি আন্দোলনকারীদের সুরক্ষা দেয়, অন্যদিকে আইনের শাসন ও জবাবদিহির প্রশ্নও সামনে আসে। তবে বর্তমান সরকার এই ইস্যুতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া মন্ত্রী আরও ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের রাজনৈতিক আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান মোকাবিলায় সরকার একটি সুসংগঠিত নীতিমালা প্রণয়নের দিকেও মনোযোগ দেবে। এতে করে একদিকে নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলাও বজায় থাকবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির এই প্রথম বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই কমিটি দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলির মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ‘ইনডেমনিটি’ বহাল রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।





