ফিচার স্বাস্থ্য

ভাতের সঙ্গে কাঁচা পেঁয়াজ, স্বাস্থ্যকর নাকি ঝুঁকিপূর্ণ?

ভাতের সঙ্গে কাঁচা পেঁয়াজ, স্বাস্থ্যকর নাকি ঝুঁকিপূর্ণ?

ভাতের সঙ্গে কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়ার অভ্যাস বাংলাদেশের অনেক পরিবারের দৈনন্দিন খাদ্যসংস্কৃতির অংশ। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই সবজিটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক বলে ধরা হয়। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, সবার জন্য কাঁচা পেঁয়াজ সমান উপকারী নয়; কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটি শারীরিক সমস্যার কারণও হতে পারে।

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে খাবারের সঙ্গে কাঁচা পেঁয়াজ পরিবেশন করা দীর্ঘদিনের অভ্যাস। বিশেষ করে ভর্তা, ডাল বা ভাতের সঙ্গে কাঁচা পেঁয়াজ অনেকের কাছে স্বাদের এক অনন্য সংযোজন। পুষ্টিবিদরা জানান, পেঁয়াজে রয়েছে ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং বিভিন্ন সালফিউরিক যৌগ, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, কাঁচা পেঁয়াজ সবার জন্য সমানভাবে সহনীয় নয়। বিশেষ করে যাদের হজমতন্ত্র সংবেদনশীল বা যাদের দীর্ঘদিনের পেটের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়া অস্বস্তির কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পেঁয়াজে থাকা “ফ্রুকটান” নামের একটি কার্বোহাইড্রেট জাতীয় যৌগ অন্ত্রে গিয়ে দ্রুত ফারমেন্টেশন বা গাঁজন প্রক্রিয়া তৈরি করতে পারে। এর ফলে গ্যাস, পেট ফাঁপা, পেটে ব্যথা এমনকি পাতলা পায়খানার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। যাদের ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস) রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও তীব্র হতে পারে।

ঢাকার কয়েকজন পুষ্টিবিদের মতে, আইবিএস আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য কাঁচা পেঁয়াজ একটি পরিচিত “ট্রিগার ফুড” হিসেবে বিবেচিত। অর্থাৎ এটি খেলে পেটের অস্বস্তি দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। তাই এই ধরনের রোগীরা যদি নিয়মিত কাঁচা পেঁয়াজ খান, তাহলে তাদের লক্ষণগুলো ঘন ঘন দেখা দিতে পারে।

শুধু আইবিএস নয়, যাদের অ্যাসিডিটি, গ্যাস্ট্রিক বা হজমজনিত অন্যান্য সমস্যা রয়েছে, তাদেরও কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। কারণ পেঁয়াজের তীব্র সালফার যৌগ অনেক সময় পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অম্লতা সৃষ্টি করতে পারে।

তবে চিকিৎসকরা এটিও বলছেন, কাঁচা পেঁয়াজ সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিকর—এমন ধারণা ঠিক নয়। বরং সঠিক পরিমাণে খেলে এটি শরীরের জন্য উপকারীই হতে পারে। সমস্যা মূলত তাদের ক্ষেত্রেই দেখা দেয়, যাদের শরীর নির্দিষ্ট কিছু খাদ্য উপাদানের প্রতি সংবেদনশীল।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে:

  • কাঁচা পেঁয়াজে রয়েছে ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও সালফার যৌগ।
  • এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।
  • হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও পেঁয়াজের কিছু উপাদান ভূমিকা রাখে।
  • পেঁয়াজে থাকা ফ্রুকটান অন্ত্রে গ্যাস ও ফাঁপা ভাব তৈরি করতে পারে।
  • আইবিএস বা সংবেদনশীল হজমতন্ত্রের মানুষের ক্ষেত্রে কাঁচা পেঁয়াজ সমস্যা বাড়াতে পারে।

পুষ্টিবিদরা বলছেন, খাবার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবার শরীরের প্রতিক্রিয়া একরকম হয় না। তাই যারা কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়ার পর বারবার পেটের অস্বস্তি অনুভব করেন, তাদের উচিত ধীরে ধীরে এটি কমিয়ে আনা বা রান্না করে খাওয়ার অভ্যাস করা। কারণ রান্না করা পেঁয়াজ অনেক সময় হজমে তুলনামূলক সহজ হয়।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
ফিচার ব্যবসা-বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারো বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। সর্বশেষ কার্যদিবসে আইসিই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার