ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে সমর্থন উত্তর কোরিয়ার
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির দায়িত্ব গ্রহণকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সম্মান’ ও সমর্থন জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। একইসঙ্গে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানকে ‘অবৈধ’ ও ‘গুন্ডামি’ বলে কঠোর ভাষায় নিন্দা করেছে পিয়ংইয়ং। বুধবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ এ তথ্য জানিয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্রের বরাতে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, একটি স্বাধীন দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতায় হস্তক্ষেপ করা আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক রীতিনীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ইরানের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব পরিবর্তনকে ঘিরে বিদেশি সামরিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা আরও বাড়ছে। পিয়ংইয়ংয়ের মতে, এমন পদক্ষেপ বিশ্ব শান্তির জন্য হুমকি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোকে দুর্বল করে দিতে পারে। উত্তর কোরিয়ার দাবি, সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ বিশ্বব্যবস্থার জন্য একটি বিপজ্জনক নজির তৈরি করে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের নতুন নেতৃত্বকে দ্রুত সমর্থন জানানো উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত অবস্থানেরই প্রতিফলন। দীর্ঘদিন ধরেই তেহরান ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও পশ্চিমা চাপের মুখে দুই দেশ প্রায়ই একে অপরের প্রতি সমর্থন জানিয়ে থাকে।
এদিকে ইরান সংকটকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা যখন বাড়ছে, ঠিক সেই সময়ই উত্তর কোরিয়া নিজেদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে। বুধবার কেসিএনএ জানায়, দেশটির নেতা কিম জং উন নতুন প্রজন্মের নৌ ধ্বংসকারী ‘চো হিওন’ থেকে কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার তদারকি করেছেন। এটি ছিল ওই যুদ্ধজাহাজ থেকে দ্বিতীয় দফার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পরীক্ষার লক্ষ্য ছিল নৌবাহিনীর দূরপাল্লার হামলা সক্ষমতা যাচাই করা এবং নতুন অস্ত্র ব্যবস্থার কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা। কিম জং উন নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা শক্তিকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করে তোলা এখন সময়ের দাবি।
বিশ্লেষকদের মতে, একই সময়ে ইরানকে সমর্থন এবং নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা—এই দুই পদক্ষেপ উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত বার্তার অংশ হতে পারে। এর মাধ্যমে পিয়ংইয়ং একদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করছে, অন্যদিকে সামরিক সক্ষমতার প্রদর্শনও করছে।





