জাতীয় ঐক্যের পথে বড় পদক্ষেপ: জামায়াতেকে ডেপুটি স্পিকার পদের প্রস্তাব সরকারের
বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদটি প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে সরকার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আজ সোমবার সচিবালয়ে এই চাঞ্চল্যকর ও তাৎপর্যপূর্ণ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
জুলাই সনদের বাস্তবায়নে অনড় সরকার
সোমবার দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এসময় তিনি জানান, ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর চেতনা এবং রাজনৈতিক সমঝোতার প্রতি সম্মান জানিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই। জুলাই জাতীয় সনদে যে ঐকমত্যের কথা বলা হয়েছে, তার বাস্তবায়ন আমরা এখন থেকেই শুরু করতে আগ্রহী। এরই অংশ হিসেবে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকে ডেপুটি স্পিকারের নাম চূড়ান্ত করতে বলা হয়েছে।”
রাজনৈতিক সমঝোতার নতুন সমীকরণ
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের গতানুগতিক ক্ষমতার রাজনীতির সংস্কৃতিতে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন। অতীতে সরকারি দল থেকেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের রেওয়াজ থাকলেও, এবার বিরোধী দলকে এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে আসীন করার মধ্য দিয়ে সংসদকে আরও কার্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ করার ইঙ্গিত দিচ্ছে বর্তমান প্রশাসন।
সচিবালয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছাড়াও সংসদের আসন্ন অধিবেশন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, জাতীয় ঐকমত্যের দলিল বা ‘জুলাই সনদ’ কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রতিটি স্তরে এর প্রতিফলন দেখা যাবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার জামায়াতে ইসলামীকে এই প্রস্তাব দিয়ে একটি দ্বিমুখী বার্তা দিয়েছে। প্রথমত, তারা দেখাতে চায় যে সরকার প্রতিহিংসার ঊর্ধ্বে উঠে বিরোধী দলকে আস্থায় নিতে প্রস্তুত। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক মহলে একটি অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক সংসদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা।
তবে এই প্রস্তাবের বিপরীতে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার বৈঠকে আলোচনার পরেই তারা ডেপুটি স্পিকার পদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো নাম চূড়ান্ত করবে। এর আগে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা ‘জাতীয় সরকার’ বা ‘ঐকমত্যের সরকার’ গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছিলেন।
সংসদে ডেপুটি স্পিকারের পদটি সাধারণত তাত্ত্বিকভাবে নিরপেক্ষ হলেও রাজনৈতিকভাবে এর গুরুত্ব অপরিসীম। বিরোধী দল থেকে কেউ এই পদে বসলে সংসদের কার্যপ্রণালী বিধিতে বিরোধী কণ্ঠস্বর আরও জোরালো হওয়ার সুযোগ পাবে।





