কাতারের এলএনজি বন্ধে ইউরোপে গ্যাসের দাম একদিনেই বাড়লো প্রায় ৫০%
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান সংঘাতের জেরে কাতার এনার্জি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন সাময়িকভাবে স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে।
সোমবার (২ মার্চ) এ ঘোষণার পর ইউরোপের পাইকারি বাজারে গ্যাসের দাম একদিনেই প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়, যা জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
উপসাগরীয় এই দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইরানের হামলার প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় গ্যাস উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। কাতার বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ। ইউরোপ, বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর, কাতারের গ্যাসের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে। ফলে উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সোমবার দিনের শুরুতেই ইউরোপে গ্যাসের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছিল। তবে কাতার এনার্জির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর মূল্যবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়ে প্রায় ৫০ শতাংশে পৌঁছে। ইউরোপের বেঞ্চমার্ক হিসেবে বিবেচিত ডাচ টি-টিএফ (TTF) হাব-এর ফ্রন্ট-মান্থ চুক্তির দাম ১৪.৫৬ ইউরো বেড়ে দাঁড়ায় ৪৬.৫২ ইউরো প্রতি মেগাওয়াট ঘণ্টা (এমডব্লিউএইচ)। আন্তর্জাতিক হিসাবে যা প্রায় ১৫.৯২ ডলার প্রতি এমএমবিটিইউ সমান।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি বাজার মূলত প্রত্যাশা ও সরবরাহ-ঝুঁকির ওপর নির্ভর করে। উৎপাদন স্থগিতের খবরটি বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা জোরালো করেছে। কাতারের এলএনজি সরবরাহ বন্ধ থাকলে ইউরোপকে বিকল্প উৎস—যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া বা আফ্রিকার কিছু দেশ—থেকে অতিরিক্ত কার্গো সংগ্রহ করতে হতে পারে। এতে পরিবহন ব্যয় বাড়বে, আর সেই প্রভাব সরাসরি পড়বে ভোক্তা পর্যায়ে।
এ পরিস্থিতিতে শিল্পখাতও চাপে পড়তে পারে। ইউরোপের রাসায়নিক, ইস্পাত ও সার কারখানাগুলো গ্যাসনির্ভর। অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিতে পারে। ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশে শীতকালীন মজুত বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে পুনর্বিবেচনা শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকরা আরও সতর্ক করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। কারণ, কেবল কাতার নয়—পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলই বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। হরমুজ প্রণালীর মতো কৌশলগত রুটে সামান্য বিঘ্নও বিশ্ববাজারে তাৎক্ষণিক ধাক্কা দেয়।
ইউরোপ ইতোমধ্যে জ্বালানি উৎস বহুমুখীকরণে জোর দিলেও, স্বল্পমেয়াদে কাতারের বিকল্প খুঁজে পাওয়া সহজ নয়। ফলে পরিস্থিতি কত দ্রুত স্বাভাবিক হয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। কাতার এনার্জি উৎপাদন পুনরায় কবে শুরু করবে—এ বিষয়ে স্পষ্ট সময়সীমা দেয়নি।





