‘চলতি মাসেই দেশজুড়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম শুরু; প্রথমে মিলবে অর্থ সহায়তা’
চলতি মাস থেকেই দেশব্যাপী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন। শুরুতে এ কার্ডের মাধ্যমে অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে।
বরিশাল জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মূল লক্ষ্য হলো সমাজের নিম্নআয়ের ও প্রান্তিক পরিবারগুলোকে একটি সমন্বিত সহায়তা কাঠামোর আওতায় আনা। তিনি জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে, পরে ধাপে ধাপে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও খাদ্য সহায়তাসহ অন্যান্য সুবিধা যুক্ত করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, “সরকার চাইছে একটি পরিবারকে আলাদা আলাদা প্রকল্পে নয়, একক পরিচয়ের মাধ্যমে সহায়তা দিতে। ফ্যামিলি কার্ড সেই সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।” তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, তথ্যভিত্তিক ডাটাবেইস তৈরি করে প্রকৃত উপকারভোগীদের চিহ্নিত করা হবে, যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা বাদ পড়ার ঘটনা কমে আসে।
অনুষ্ঠানে ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, মাতৃভাষার জন্য আত্মত্যাগের চেতনা থেকেই দেশের উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কর্মসূচির অনুপ্রেরণা আসে। তিনি উল্লেখ করেন, ভাষা আন্দোলন শুধু সাংস্কৃতিক পরিচয়ের লড়াই ছিল না, বরং অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। সেই ধারাবাহিকতায় সরকার নাগরিকের ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নিয়ে ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সম্ভাব্য উপকারভোগীদের তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে। ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে, যাতে একই পরিবার একাধিকবার সুবিধা না পায়।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি থাকলেও সেগুলো বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হওয়ায় সমন্বয়ের অভাব দেখা যায়। ফ্যামিলি কার্ড উদ্যোগ সফল হলে তা সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে পারে। তবে বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা ভাষা শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।





