শিক্ষাখাতে আমূল পরিবর্তনের বার্তা দিলেন নতুন মন্ত্রী এহছানুল হক মিলন
শিক্ষাখাতকে স্থিতিশীল ও গতিশীল করতে ছোটখাটো পদক্ষেপে নয়, বড় ধরনের অগ্রযাত্রা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন নতুন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। অতীতের নকল ও প্রশ্নফাঁসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেছেন, এখন সময় এগিয়ে যাওয়ার—‘বড় বড় জাম্প’ দেওয়ার।
দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম দিকের বক্তব্যেই তিনি স্পষ্ট করেছেন, শিক্ষাব্যবস্থায় আস্থার সংকট কাটিয়ে মানোন্নয়নই হবে তাঁর অগ্রাধিকার। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০১ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ক্ষমতায় আসার পর নকল রোধ ও প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। “সেগুলো তো চলেই গেছে। সেগুলোর আর পুনরাবৃত্তি হবে বলে আমি বিশ্বাস করি না,”—বলেছেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা এখন কেবল পরীক্ষাভিত্তিক সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। বিশ্বায়ন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—সব মিলিয়ে নতুন বাস্তবতায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই ‘শুধু জাম্প না, অনেক বড় বড় জাম্প’ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, নীতিগত ও কাঠামোগত পরিবর্তন ছাড়া কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সম্ভব নয়।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত এক দশকে পাঠ্যক্রম পরিবর্তন, ডিজিটাল ক্লাসরুম, মাল্টিমিডিয়া শিক্ষা, উপবৃত্তি কর্মসূচি—বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও মানের প্রশ্নে বিতর্ক রয়ে গেছে। বিশেষ করে প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষায় অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগে আস্থা ক্ষুণ্ন হয়েছে বহুবার। নতুন মন্ত্রীর বক্তব্য সেই আস্থার জায়গাটিই পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মন্ত্রী ইঙ্গিত দেন, প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সমন্বিত সংস্কার প্রয়োজন। শুধু পাঠ্যবই বদলালেই হবে না; শিক্ষক প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন পদ্ধতি, কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সম্প্রসারণ—সব ক্ষেত্রে যুগোপযোগী রূপান্তর দরকার। তাঁর ভাষায়, “এডুকেশন সেক্টরে এখন বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, ‘বড় জাম্প’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে, তা স্পষ্ট করতে শিগগিরই একটি রোডম্যাপ প্রয়োজন। শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে ধারাবাহিকতা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ ছাড়া বড় পরিবর্তন টেকসই হয় না। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করাও জরুরি।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাতে এখনো অবকাঠামোগত বৈষম্য রয়েছে—গ্রাম ও শহরের বিদ্যালয়ের মধ্যে মানের ফারাক, শিক্ষকসংকট এবং ডিজিটাল সুবিধার অপ্রতুলতা বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে উচ্চশিক্ষায় গবেষণা খাতে বিনিয়োগ তুলনামূলক কম। এসব জায়গায় কার্যকর পদক্ষেপ নিলে শিক্ষাব্যবস্থার ভিত্তি মজবুত হতে পারে।





