জাতীয় ফিচার

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান ও মন্ত্রিপরিষদের ৪৯ সদস্যের শপথ গ্রহণ

এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাক্ষী হলো বাংলাদেশ। দীর্ঘ দেড় দশকের টানাপড়েন আর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের অবসান ঘটিয়ে আজ মঙ্গলবার বিকেলে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান।
এদিন তারেক রহমানের সঙ্গে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে ২৫ জন এবং প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ২৪ জন শপথ নিয়েছেন।

বঙ্গভবনের গতানুগতিক চার দেয়ালের বাইরে খোলা আকাশের নিচে আয়োজিত এই শপথ অনুষ্ঠানকে দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

উৎসবমুখর পরিবেশে শপথ গ্রহণ

বিকেল ঠিক ৪টায় অনুষ্ঠান শুরু হয়। জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে সূচিত এই অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি উচ্চপদস্থ কূটনীতিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং বিশিষ্ট নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন। তারেক রহমান শপথ গ্রহণের পর পবিত্র কুরআন স্পর্শ করে দেশের সংবিধান ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার করেন।

নতুন এই মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তারুণ্যের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া ২৫ জনের তালিকায় রয়েছেন বিএনপির দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত জ্যেষ্ঠ নেতারা, যাঁদের হাত ধরে আগামী দিনের প্রশাসনিক সংস্কারের রূপরেখা বাস্তবায়িত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ মুখ স্থান পেয়েছেন, যা নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকারের সদিচ্ছার প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার এক অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন সরকারের পতনের পর প্রায় ১৮ মাস ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশ পরিচালনা করে। এরপর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। আজ সেই জনরায়ের আনুষ্ঠানিক প্রতিফলন ঘটল।

নতুন মন্ত্রিসভার আকার ও কাঠামোর কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:

* প্রধানমন্ত্রী: তারেক রহমান
* পূর্ণমন্ত্রী: ২৫ জন (প্রতিরক্ষা, অর্থ, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্রসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়)।
* প্রতিমন্ত্রী: ২৪ জন (তথ্য-প্রযুক্তি, শিক্ষা ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত)।
* শপথ গ্রহণ স্থান: জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা।
* অতিথি সংখ্যা: দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ১,২০০ জন আমন্ত্রিত অতিথি।

শপথ গ্রহণ শেষে সংক্ষিপ্ত এক প্রতিক্রিয়ায় নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “এই বিজয় আমার নয়, এই বিজয় বাংলাদেশের প্রতিটি মুক্তিকামী মানুষের। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং গত দেড় দশকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন সরকারের সামনে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং বৈদেশিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা অনুযায়ী দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গঠন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এই মন্ত্রিসভা কতটুকু সফল হয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে সারা দেশ।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
জাতীয়

সম্মেলন করে নির্বাচনি প্রচারণার নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের

সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। সিটি নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র