জাতীয় ফিচার

‘এক হাতে গায়ে হাত, আরেক হাতে ফ্যামিলি কার্ড, এ ভণ্ডামি নারীরা চান না’

চট্টগ্রাম নগরের বন্দর স্কুল-কলেজ মাঠে নির্বাচনি জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, নারী নির্যাতন করে পরে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দিয়ে সহানুভূতি দেখানোর রাজনীতি জনগণ গ্রহণ করবে না। সোমবার সন্ধ্যার সমাবেশে তিনি বলেন, নারীরা সম্মান চায়, করুণা নয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে ‘দ্বিচারিতা’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “একদিকে গায়ে হাত, আরেক হাতে ফ্যামিলি কার্ড—এই দ্বিমুখী আচরণ নারীরা চায় না। তারা নিরাপত্তা ও মর্যাদা চায়, দয়া নয়।”

‘ফ্যামিলি কার্ড’ ইস্যুতে কটাক্ষ

বক্তব্যে তিনি ইঙ্গিত দেন, কিছু দল সামাজিক নিরাপত্তা বা সহায়তার নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। কিন্তু একই সময়ে নারীদের প্রতি সহিংসতা, হয়রানি ও অবমূল্যায়নের ঘটনা ঘটছে।

তার ভাষায়, “মানুষকে নির্ভরশীল বানিয়ে ভোট নেওয়ার রাজনীতি আমরা করি না। আমরা চাই পরিবার স্বাবলম্বী হোক, নারীরা নিরাপদে কাজ করুক।”

ডা. শফিকুর বলেন, শুধুমাত্র ভাতা বা কার্ড দিয়ে সমস্যার সমাধান হয় না; প্রয়োজন কাঠামোগত পরিবর্তন। কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে এসব উদ্যোগ ‘চোখে ধুলো দেওয়ার কৌশল’ হয়ে দাঁড়ায়।

নারীর মর্যাদা ও রাজনীতি

জামায়াত আমির দাবি করেন, নারীদের রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। “নির্বাচনের সময় বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে হয়রানি বন্ধ হয় না,”—বলেন তিনি।

তার বক্তব্যে নারীর নিরাপত্তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার প্রসঙ্গ বারবার উঠে আসে। তিনি বলেন, একটি সুস্থ সমাজে নারীরা শুধু ভোটার নন, তারা উন্নয়নের চালিকাশক্তি।

বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনে নারী ভোটারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় প্রায় সব দলই নারীবান্ধব কর্মসূচি সামনে আনছে। ফলে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বা সামাজিক সহায়তা প্রকল্প এখন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে।

সন্ধ্যার আগেই মাঠে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও উপজেলা থেকে দলীয় নেতা-কর্মীরা জড়ো হন। ব্যানার-ফেস্টুনে ভরে ওঠে পুরো এলাকা। বক্তৃতার সময় বারবার ‘ন্যায়ভিত্তিক সমাজ’ ও ‘নৈতিক রাজনীতি’র স্লোগান শোনা যায়।

মঞ্চে দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারাও বক্তব্য রাখেন। তারা সরকারের সমালোচনা করে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানান।

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দল দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারকে সহায়তা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, নগদ ভাতা বা বিশেষ সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এসব উদ্যোগকে কেউ দেখছেন সামাজিক সুরক্ষা হিসেবে, আবার কেউ বলছেন—এগুলো ভোটকেন্দ্রিক কৌশল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডা. শফিকুর রহমানের মন্তব্য মূলত এই বিতর্ককেই সামনে এনেছে—সামাজিক কল্যাণ কি অধিকার, নাকি নির্বাচনি হাতিয়ার?

রাজনীতির মঞ্চে প্রতিশ্রুতির ঝড় নতুন নয়। তবে ভোটের হিসাবের বাইরে গিয়ে যদি সত্যিই নারীর নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করা যায়, তবেই বদল আসবে সমাজে। চট্টগ্রামের জনসভা থেকে দেওয়া বার্তা সেই প্রশ্নই আবার সামনে আনল—সহানুভূতি নয়, নারীরা কি সত্যিই অধিকার পাবে?

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
জাতীয়

সম্মেলন করে নির্বাচনি প্রচারণার নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের

সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। সিটি নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র