ব্যালট বক্স ছিনতাই হলে কেউ রেহাই পাবে না, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কঠোর হুঁশিয়ারি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহিংসতা ও অনিয়ম প্রতিরোধে সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এ কথা জানিয়ে সতর্ক করে বলেছেন, কোনো ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বক্স ছিনতাই হলে পোলিং অফিসার থেকে শুরু করে প্রিসাইডিং অফিসার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্যই দায় এড়াতে পারবেন না। এই কঠোর অবস্থান নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু করার অন্তর্বর্তী সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এই বক্তব্য আসছে যখন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি চলছে। অতীতের নির্বাচনগুলোতে ব্যালট বক্স ছিনতাই, কেন্দ্র দখল এবং সহিংসতার ঘটনা ভোটারদের আস্থা কমিয়েছে। এবার অন্তর্বর্তী সরকার সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে অভূতপূর্ব মাত্রায় জোরদার করেছে। উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সব বাহিনীকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—কোনো অনিয়ম বা সহিংসতা সহ্য করা হবে না। ব্যালট বক্স ছিনতাইয়ের মতো গুরুতর অপরাধে দায়িত্বে থাকা সবাইকে জবাবদিহি করতে হবে।
এই নির্দেশনা শুধু কথার কথা নয়। সরকারি সূত্র জানায়, নির্বাচনের দিন প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কমপক্ষে পাঁচজন অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এছাড়া ড্রোন, ডগ স্কোয়াড, বিএনসিসি, স্কাউটস এবং গার্লস গাইডের সদস্যরাও নিরাপত্তায় যুক্ত হবেন। প্রায় নয় লাখ আইনশৃঙ্খলা সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা চলছে, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সমন্বিত নিরাপত্তা অভিযান। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানো হবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এমন হবে যে ব্যালট বক্স ছিনতাই অসম্ভব হয়ে পড়বে।
অতীতের প্রেক্ষাপটে এই কঠোরতা বোঝা যায়। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০১৮-এর নির্বাচনে অনেক কেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে, যা নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করেছে। এবার সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি রোধে অন্তর্বর্তী সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ করতে সবাইকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি যদি অবহেলা করেন বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে কোনো ছাড় নেই।
বিশ্লেষকরা এই অবস্থানকে ইতিবাচক বলছেন। তারা মনে করেন, দায়িত্বশীলদের প্রতি এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দায়িত্ব পালনে সতর্কতা বাড়াবে। তবে চ্যালেঞ্জ রয়েছে—মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা ছাড়া শুধু বাহিনীর উপর নির্ভর করে সফলতা আসবে না। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্যে স্পষ্ট যে, সরকার নির্বাচনকে একটি মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।





