চিরসবুজ নায়ক জাভেদ আর নেই
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সোনালী যুগের জনপ্রিয় অভিনেতা ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। আজ ২১ জানুয়ারি সকালে উত্তরার নিজ বাসভবনে ক্যানসার ও হৃদরোগের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। এই খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে চলচ্চিত্রাঙ্গনে, যেখানে তিনি একজন নৃত্যশিল্পী থেকে কিংবদন্তি নায়ক হয়ে উঠেছিলেন।
ইলিয়াস জাভেদের জন্ম ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশোয়ারে। তার আসল নাম ছিল রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। পরিবারসহ তিনি পরে পাঞ্জাবে চলে আসেন। ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৮৪ সালে তিনি চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীকে বিয়ে করেন। ষাটের দশকে নৃত্য পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন জাভেদ। তার নাচের কৌশল এবং অভিনয়ের দক্ষতা দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল, যা তাকে একজন বহুমুখী শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
জাভেদের অভিনয় জীবন শুরু হয় ১৯৬৪ সালে উর্দু চলচ্চিত্র ‘নয়ি জিন্দেগি’ দিয়ে, যেখানে তিনি নায়কের ভূমিকায় অভিষেক করেন। কিন্তু সত্যিকারের জনপ্রিয়তা আসে ১৯৬৬ সালের ‘পায়েল’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে, যেখানে তিনি শাবানার সঙ্গে জুটি বেঁধে দর্শকদের হৃদয় জয় করেন। এরপর নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত তিনি প্রায় দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন, যা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের সোনালী যুগকে সমৃদ্ধ করেছে। তার অভিনয়ে মিশে ছিল রোমান্টিকতা, অ্যাকশন এবং নাটকীয়তা, যা তাকে একজন বহুমুখী নায়ক হিসেবে চিহ্নিত করে।
দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন জাভেদ। এছাড়া হৃদরোগের সমস্যাও ছিল তার, যার কারণে আগে দুবার আক্রান্ত হয়েছিলেন। সম্প্রতি হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন, যেখানে চিকিৎসক ও নার্সরা তার দেখভাল করছিলেন। তার স্ত্রী ডলি চৌধুরী জানিয়েছেন, সকালে তার শারীরিক অবস্থা হঠাৎ অবনতি হয়। শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়ায় অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনা চলচ্চিত্রাঙ্গনকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান খবরটি নিশ্চিত করে বলেন, “জাভেদ ভাই দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। আজ তিনি চিরবিদায় নিয়ে চলে গেলেন। সবাই তার আত্মার শান্তির জন্য দোয়া করবেন।” চলচ্চিত্রের অনেক তারকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন, যা দেখিয়ে দেয় তার প্রভাব কতটা গভীর।





