জাতীয় ফিচার

‘নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১’ অনুসরণে সরকারের কড়া নির্দেশনা

সরকারি চাকরির বয়সসীমা বাড়ল

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১-এর বিধান সম্পর্কে সচেতন থেকে দায়িত্ব পালন করার জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।

দায়িত্ব পালনে কোনো অনীহা, অসহযোগিতা, শৈথিল্য বা ভুল তথ্য প্রদান করলে আইন অনুসারে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সব মন্ত্রণালয়ের সচিবদের কাছে চিঠি দিয়ে এই আইনের বিধান অনুসরণের পরিপত্র সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানাতে নির্দেশ দিয়েছে।

এর ধারাবাহিকতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ তাদের অধীনস্থ সব অধিদপ্তর, দপ্তর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এ নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দিয়ে পত্র পাঠিয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-১) মো. খালিদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত ৯ জানুয়ারি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. রাজিবুল আলম স্বাক্ষরিত নির্দেশনাপত্র তাদের কাছে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, মাঠ পর্যায়ের সব অঞ্চল, জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কাছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্র পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ আইন অনুসরণ করে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রে (মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ স্বাক্ষরিত) বলা হয়েছে, নির্বাচন পরিচালনায় ৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার ও ৪৯৯ জন সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া বিপুলসংখ্যক শিক্ষক, সরকারি-আধাসরকারি-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কিছু ক্ষেত্রে বেসরকারি অফিস থেকে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে। তারা সবাই ‘নির্বাচন কর্মকর্তা’ হিসেবে গণ্য হবেন এবং সরাসরি নির্বাচন কমিশনের কাছে দায়ী থাকবেন।

আইনের ৪ ধারায় নির্বাচন কর্মকর্তার চাকরি এবং ৫ ধারায় শৃঙ্খলামূলক বিধান উল্লেখ করে পরিপত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচনসংক্রান্ত দায়িত্বে অনীহা, অসহযোগিতা, শৈথিল্য বা ভুল তথ্য প্রদানকে ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য করা হবে। এতে সরকার অভিযুক্ত করে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে।

আইন অনুসারে, আনুষ্ঠানিক নিয়োগপত্র না থাকলেও নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা কমিশনের নির্দেশ পালন বা তথ্য সরবরাহের দায়িত্বে থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচিত হবেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার হিসেবে বড় ভূমিকা পালন করেন। তাই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), মাউশি, নায়েম, ব্যানবেইস, এনটিআরসিএ, এনসিটিবি, ইইডিসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সজাগ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও সততা, নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ দায়িত্বে শৈথিল্য না দেখানোর জন্য সবাইকে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
জাতীয়

সম্মেলন করে নির্বাচনি প্রচারণার নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের

সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। সিটি নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র