ওসমান হাদি হত্যায় দুই সহায়তাকারী ভারতের মেঘালয়ে গ্রেফতার
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত দুই সহায়তাকারী ভারতের মেঘালয় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)—হত্যাকারীরা ভারতে পলিয়ে গেছে।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম।
এর আগে শনিবার রাতে শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিতে গিয়ে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, ‘এটি একটি রহস্যজনক হত্যাকাণ্ড। এর পেছনে অনেকে জড়িত। আমরা এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করেছি। হত্যাকাণ্ডের পেছনে-মূলে যারা রয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের নাম-ঠিকানা উন্মোচিত করে দেবো।’
তিনি জানান, হাদিকে গুলি করতে ব্যবহৃত দুটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে এবং সায়েন্টিফিক পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলও ডিবি পুলিশ উদ্ধার করেছে।
গত ১২ ডিসেম্বর দিনদুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা কাছ থেকে গুলি করে শরিফ ওসমান হাদিকে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি শহীদ হন।
হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ইনকিলাব মঞ্চসহ বিভিন্ন সংগঠন হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে আন্দোলন করে। এ পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রধান শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ রাহুল দাউদসহ কয়েকজন এখনো পলাতক।
ভারতের মেঘালয়ে দুই সহায়তাকারীর গ্রেফতারকে তদন্তে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ডিএমপি জানায়, আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় পলাতক আসামিদের ধরতে চেষ্টা চলছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।





