শহীদ ওসমান হাদির মরদেহ ঢাকায় পৌঁছেছে: শনিবার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জানাজা
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম বীর যোদ্ধা, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট ইএ-৫৮৫-এ করে সিঙ্গাপুর থেকে মরদেহ বহন করা হয়। বিমানবন্দরের ক্যান্টনমেন্ট গেট দিয়ে মরদেহবাহী গাড়ি বের হয়ে যায়।
এর আগে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৩ মিনিটে সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। মরদেহ আসার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শাহজালাল বিমানবন্দরের ৮ নম্বর ফটকের সামনে হাজার হাজার অনুসারী, ইনকিলাব মঞ্চের কর্মী ও সাধারণ মানুষ জড়ো হন। মরদেহ আনাকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুলিশ ও র্যাবের বিপুল সদস্য মোতায়েন করা হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে জানানো হয়েছে, আগামীকাল শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বাদ জোহর ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে শহীদ ওসমান হাদির নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁর মরদেহ দাফন করা হবে বলে জানা গেছে। জানাজায় লাখো মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বিজয়নগর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা কাছ থেকে গুলি করে। গুলিটি তাঁর মাথায় লেগে মারাত্মক আঘাত করে। গুরুতর অবস্থায় প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়। তিনদিন চিকিৎসার পর ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
ইনকিলাব মঞ্চ তাঁকে ‘স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার অকুতোভয় বীর শহীদ’ আখ্যা দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে। হাদির মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমেছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে ইতোমধ্যে শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে জানানো হয়েছে।





