ইইউ-এর অভিবাসন নীতিতে নতুন মোড়: ‘রিটার্ন হাব’ খুলে তৃতীয় দেশে ফেরত পাঠানোর পথ উন্মুক্ত!
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৭ সদস্যদেশের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রীরা সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে বৈঠক করে অভিবাসন নীতিকে আরও কঠোর করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি অবৈধ অভিবাসীদের দ্রুত ফেরত পাঠানো এবং ইউরোপে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণকে সহজতর করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে, যা ২০২৪ সালের অভিবাসন ও আশ্রয় চুক্তির একটি মূল অংশ। ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি-র প্রতিবেদন অনুসারে, এই নতুন নিয়মাবলী ২০২৬ সালের মাঝামাঝি থেকে কার্যকর হবে এবং ইইউ-এর বাইরের তৃতীয় দেশে ‘রিটার্ন হাব’ নামক কেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ তৈরি করেছে।
এই ‘রিটার্ন হাব’গুলো অভিবাসীদের আশ্রয় দাবি প্রত্যাখ্যাত হলে তাদের নিজ দেশের পরিবর্তে ইইউ-এর ‘নিরাপদ’ বলে বিবেচিত তৃতীয় দেশে পাঠানোর জন্য ব্যবহার করা যাবে। এই কেন্দ্রগুলো দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে গড়ে তোলা যাবে, যেখানে অভিবাসীদের দীর্ঘমেয়াদী আটক রাখা সম্ভব—যা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অযৌক্তিক আটকের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। যারা ইউরোপ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানাবে, তাদের জেলে বা আটক কেন্দ্রে লম্বা সময় ধরে রাখার বিধানও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এছাড়া, নতুন আইন অনুসারে ইইউ-এর বিভিন্ন দেশে কমপক্ষে ৩০ হাজার আশ্রয়প্রার্থীকে বণ্টন করতে হবে; দেশগুলো চাইলে প্রতি ব্যক্তির জন্য ২০ হাজার ইউরো জরিমানা-সদৃশ সহায়তা দিয়ে এই দায়িত্ব এড়াতে পারবে।
এই সিদ্ধান্তের পটভূমিতে, ২০২৫ সালে অবৈধ পথে ইউরোপে প্রবেশকারীর সংখ্যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কমলেও রাজনৈতিক চাপ কমেনি। দক্ষিণপন্থী দলগুলোর উত্থান এবং জনমতের পরিবর্তনের কারণে ইইউ সরকারগুলো অভিবাসন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছে। তবে এই নীতির বিরোধিতা করেছে ইউরোপের মানবাধিকার সংগঠনগুলো, যেমন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। তারা বলছেন, এসব ব্যবস্থা অভিবাসীদের অযৌক্তিক আটক, দীর্ঘক্ষণীণ নির্বাসন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়াবে, যা আন্তর্জাতিক আইনের নন-রিফুলমেন্ট নীতির লঙ্ঘন ঘটাতে পারে। এনজিওগুলো মনে করেন, এটি আরও বেশি মানুষকে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ঠেলে দেবে এবং ইউরোপের মানবিক ইমেজ ক্ষুণ্ণ করবে।
এই প্রস্তাবটি এখন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত আকার নেবে, কিন্তু এর ফলে ইউরোপীয় অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।





