খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ড জানালেই আসবে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। কাতারের আমিরের নির্দেশে জার্মান কোম্পানি থেকে ভাড়া করা অত্যাধুনিক রয়েল এয়ার অ্যাম্বুলেন্স মেডিকেল বোর্ডের সবুজ সংকেত পেলেই ঢাকায় রওনা হবে। টেকনিক্যাল জটিলতার কারণে আসল কাতারি অ্যাম্বুলেন্সের আগমন বিলম্বিত হওয়ায় এই বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শনিবার গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এনামুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, “ম্যাডামের মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাতারের রয়েল অ্যাম্বুলেন্স বাংলাদেশে আসবে। তারা সব প্রস্তুত। বোর্ড যখনই সিদ্ধান্ত জানাবে, তখনই এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় পৌঁছে বেগম জিয়াকে লন্ডনে নিয়ে যাবে। সবকিছু কাতার কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে হচ্ছে।”
জার্মানি থেকে অ্যাম্বুলেন্স আনার বিষয়ে তিনি বলেন, “এটা আমাদের ব্যবস্থা নয়, কাতার কর্তৃপক্ষই জার্মান কোম্পানি FAI থেকে ভাড়া করে দিচ্ছে। এটি তিবিলিসি (জর্জিয়া) থেকে ঢাকায় আসবে।” কাতার দূতাবাসের পিআরও ঐসাদুর রহমানও নিশ্চিত করেছেন, “মেডিকেল বোর্ডের অনুমোদন পেলেই অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় উড়ে আসবে।”
বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে একাধিক চিকিৎসক বলেন, তিনি এখনো ফ্লাই করার পূর্ণ সক্ষমতা অর্জন করেননি। ২৩ নভেম্বর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া চেস্ট ইনফেকশন, হার্ট-লাং কমপ্লিকেশনসহ লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতা, ডায়াবেটিস ও আর্থ্রাইটিসে ভুগছেন। মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা তাঁকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (CCU) নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন। যুক্তরাজ্য ও চীনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন।
এর আগে ৫ ডিসেম্বর ইচ্ছুক ছিলেন লন্ডন যাত্রার, কিন্তু টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে বিলম্ব হয়েছে। বিএনপি মিডিয়া সেল জানিয়েছে, তাঁর ছেলে তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান লন্ডন থেকে বর্তমানে ঢাকায় ফিরছেন এবং যাত্রায় সঙ্গী হবেন। যাত্রায় সঙ্গে যাবেন ১৪ জনের দল, যার মধ্যে ৬ জন চিকিৎসক, পরিবারের সদস্য, বিএনপি নেতা এবং স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের সদস্য। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি শুক্রবার বিকেল ৫টায় ঢাকায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা, যাতে সোমবার যাত্রা সম্ভব হয়।
বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “যাত্রার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বেগম জিয়ার স্বাস্থ্যের ওপর নির্ভর করবে।” পরিবার ও দল দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে একই কাতার রয়েল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে লন্ডন গিয়ে চার মাস চিকিৎসা নিয়ে ৫ মে দেশে ফিরেছিলেন তিনি।





