শাপলা কলি প্রত্যাখ্যান: এনসিপির অটল দাবি ‘শুধু শাপলা’
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতীক তালিকায় যুক্ত ‘শাপলা কলি’ প্রতীক প্রত্যাখ্যান করেছে। দলটি শুধুমাত্র ‘শাপলা’ প্রতীক চায় এবং ‘শাপলা কলি’ গ্রহণ করবে না বলে জানিয়েছে।
এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব জহিরুল ইসলাম মুসা বলেছেন, “আমরা শাপলা চাই, শাপলা কলি নয়।” দলীয় নেতারা মনে করছেন, এটি তাদের পরিচয়ের সঙ্গে মিলছে না এবং প্রতীক ইস্যু সাংগঠনিক ঐক্য ও নির্বাচনী প্রচারণায় প্রভাব ফেলতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে এনসিপি ‘শাপলা’ প্রতীক দাবি করে আসছিল, কিন্তু ইসি বিধিমালায় না থাকায় প্রথমে অস্বীকার করেছিল। অবশেষে বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) ইসি ‘নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮’ সংশোধন করে প্রতীক তালিকায় ১০২ নম্বরে ‘শাপলা কলি’ যুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
এর সঙ্গে আরও তিনটি নতুন প্রতীক যুক্ত হয়েছে, ফলে মোট প্রতীকের সংখ্যা ১১৯টি। সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এই প্রজ্ঞাপন জারি করেন এবং বলেছেন, ‘শাপলা’ ও ‘শাপলা কলি’ এক নয়—এটি কোনো দলের দাবির প্রেক্ষিতে নয়, কমিশনের নিজস্ব সিদ্ধান্ত।
তবে এনসিপি নেতৃত্ব প্রতীক নিয়ে বিভ্রান্ত এবং অসন্তুষ্ট। দলীয় সূত্র জানায়, শীর্ষ নেতারা ঢাকার বাইরে থাকায় আলোচনা চলছে এবং ঐক্যমতের ভিত্তিতে অবস্থান নেওয়া হবে। যুগ্ম সদস্যসচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত বলেন, ইসির এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে তাদের নীতিমালা নেই এবং পক্ষপাতদুষ্টতা রয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ইসি পুনর্গঠন দরকার।
সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন প্রশ্ন তুলেছেন, এতদিন ‘শাপলা’ দেওয়া যাবে না বলে কেন বিলম্ব, এবং প্রক্রিয়াটি সন্দেহজনক কি না। যুগ্ম আহ্বায়ক মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন বলেছেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জানানো হবে।
এই ঘটনা এনসিপির নির্বাচনী কৌশলকে প্রভাবিত করতে পারে, যখন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। দলটি এখন অন্যান্য উপলব্ধ প্রতীক বিবেচনা করতে বাধ্য হতে পারে, কিন্তু ‘শাপলা’ দাবি থেকে পিছপা হয়নি।





