রাষ্ট্রপতির ছবি পুনঃস্থাপনের দাবিতে আইনি নোটিশ: সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ
বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের মিশন, হাইকমিশন ও দূতাবাসে রাষ্ট্রপতির ছবি পুনঃস্থাপনের দাবিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এই নোটিশে রাষ্ট্রপতির ছবি অপসারণকে সংবিধানের পরিপন্থী এবং রাষ্ট্রীয় প্রোটোকলের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, সম্প্রতি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের মিশন, হাইকমিশন ও দূতাবাসগুলোতে রাষ্ট্রপতির ছবি প্রদর্শন না করার নির্দেশ দিয়েছে। এই নির্দেশ জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, কারণ রাষ্ট্রপতির ছবি প্রদর্শন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় প্রথা ও প্রোটোকলের অংশ। বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৮(২)-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে, ‘রাষ্ট্রপতি হইবেন রাষ্ট্রের প্রধান এবং তিনি রাষ্ট্রের সকল ব্যক্তির উপর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত হইবেন।’ ফলে, রাষ্ট্রপতির ছবি অপসারণের নির্দেশকে সংবিধানের লঙ্ঘন, রাষ্ট্রপ্রধানের পদমর্যাদার অবমাননা এবং বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ না করা, অপসারিত না হওয়া বা মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি সাংবিধানিকভাবে বৈধ। তাই, বিদেশে অবস্থিত সকল বাংলাদেশ মিশন, হাইকমিশন ও দূতাবাসে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ছবি অবিলম্বে পুনঃস্থাপন করতে হবে। এছাড়া, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ছবিও, যিনি প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদাসম্পন্ন, রাষ্ট্রপতির ছবির সঙ্গে প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, আগামী ১০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির ছবি পুনঃস্থাপন না করা হলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে। এই নির্দেশের পেছনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মৌখিক নির্দেশনার কথা উল্লেখ করা হলেও কোনো লিখিত আদেশ জারি করা হয়নি বলে জানা গেছে। এই ঘটনা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতীক ও প্রোটোকল নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ এটিকে অন্তর্বর্তী সরকারের রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, যা সাবেক সরকারের উত্তরাধিকার মুছে ফেলার প্রচেষ্টার অংশ।





