খাগড়াছড়িতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার আগুন: ইউপিডিএফকে দায়ি করল সেনাবাহিনী
খাগড়াছড়ির গুইমারায় সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার জন্য ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টকে (ইউপিডিএফ) দায়ী করে অভিযোগ করেছেন রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান মাহমুদ। ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে গুইমারার রামসু বাজারে সংঘটিত দাঙ্গায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৩ জন সেনা কর্মীসহ অনেক আহত হয়েছেন। এই ঘটনা খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের পাহাড়ি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে খাগড়াছড়ির সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান মাহমুদ বলেন, ধর্ষণের অভিযোগকে পুঁজিবাজি করে ইউপিডিএফ সাধারণ পাহাড়ি নারী ও কোমলমনা শিক্ষার্থীদের সামনে দিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ২৩ সেপ্টেম্বর সিংগিনাল্লা এলাকায় এক ক্লাস-৮-এর ছাত্রীর গ্যাং ধর্ষণের অভিযোগে সন্দেহভাজন ইউপিডিএফ কর্মী শায়ন শিলকে ২৪ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপর থেকে সংগঠনটি বহিরাগত সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে দেশীয় ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহার করে গুলি চালিয়েছে, যা ১৯ সেপ্টেম্বর মোটরসাইকেল চালক মামুনের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত।
তিনি আরও জানান, সংঘর্ষের ফলে রামসু বাজারে ৬০টিরও বেশি দোকান ও ১৫টি বাড়ি পুড়ে গেছে, ৭টি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান লুট হয়েছে এবং ১৩টি মোটরসাইকেল ধ্বংস হয়েছে। সেনাবাহিনী, বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাতভর প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, কিন্তু ইউপিডিএফের কর্মীরা ১৪৪ ধারা লঙ্ঘন করে রাস্তা অবরোধ করে। কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন গতকাল একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে ইউপিডিএফের সঙ্গে যুক্ত অস্ত্রের এক বড় ভাণ্ডার জব্দ করেছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান মাহমুদ জোর দিয়ে বলেন, সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব ও অবিচ্ছেদ্য অংশ রক্ষায় সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখবে। তিনি ইউপিডিএফকে দেশের স্বার্থে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং জনজীবনে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। অবরোধ না তুলা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বজায় রাখার জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বহিঃশক্তি বা কোনো মহল পেছন থেকে সাহায্য করছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করে দেখানোর চক্রান্ত চলছে, যা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মাত্রা নিতে পারে। খাগড়াছড়ির ঘটনার জের ধরে রাঙামাটি ও বান্দরবানেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি সবাইকে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতার জন্য একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
পাহাড়ি অঞ্চলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করেছে যে, সেনাবাহিনীর গুলিতে চারজন আদিবাসী নিহত ও ৪০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে। তবে সেনাবাহিনী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, ইউপিডিএফের ষড়যন্ত্রই এর পেছনে রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনা ও পুলিশের যৌথ অভিযান চলছে।





