অন্যান্য ফিচার বিশ্ব সংযোগ

বছরে ১ লাখ ডলার ফি, ভারত-চীনের আইটি স্বপ্নে ফাটল

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) একটি নির্বাহী আদেশে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য বছরে ১ লাখ মার্কিন ডলার ফি আরোপ করেছেন। এই দক্ষ কর্মী ভিসা প্রোগ্রামের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি খাতে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করা হয়, যা সিলিকন ভ্যালির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নতুন ফি, যা বিদ্যমান ফির পাশাপাশি আরোপ করা হবে, আমেরিকান কর্মীদের চাকরি রক্ষায় সাহায্য করবে বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে এটি ভারত ও চীনের মতো দেশের হাজার হাজার দক্ষ যুবকের স্বপ্ন ভেঙে দেওয়ার মতো, এবং প্রযুক্তি জায়ান্টদের খরচ বাড়িয়ে দেবে।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালে H-1B ভিসার ৭১ শতাংশ ভারতীয় নাগরিকরা পেয়েছেন, যা মোট ৮৫,০০০টি ভিসার মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ। ভারতের পরে চীন দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ১১.৭ শতাংশ ভাগ নিয়ে, যদিও সংখ্যায় এটি অনেক পিছিয়ে।

এই ফির ফলে ভারতীয় আইটি কোম্পানি যেমন ইনফোসিস ও উইপ্রোর শেয়ার মূল্য ইতিমধ্যে ২-৫ শতাংশ কমেছে, তেমনি কগনিজ্যান্টের শেয়ারও ৫ শতাংশ নেমে গেছে। এই কোম্পানিগুলো H-1B ভিসাধারীদের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

এইচ-১বি প্রোগ্রামে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ভূমিকা অস্বীকার্য। ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে অ্যামাজন ডটকম এবং এর ক্লাউড ইউনিট এডব্লিউএস (AWS) ১২ হাজারের বেশি ভিসা অনুমোদন পেয়েছে। একই সময়ে মাইক্রোসফট এবং মেটা প্ল্যাটফর্মস প্রত্যেকে ৫ হাজারেরও বেশি অনুমোদন অর্জন করেছে।

হোয়াইট হাউসের ফ্যাক্ট শিট অনুসারে, কিছু কোম্পানি H-1B অনুমোদন পাওয়ার পরও হাজার হাজার আমেরিকান কর্মীকে ছাঁটাই করেছে—যেমন একটি কোম্পানি ৫,১৮৯ ভিসা পেয়েছে কিন্তু ১৬,০০০ আমেরিকানকে চাকরি কেড়ে নিয়েছে। ট্রাম্প এই ফির মাধ্যমে “অসাধারণ” প্রতিভাবানদের আকর্ষণ করতে চান, যাতে তারা আমেরিকায় ব্যবসা শুরু করে চাকরি সৃষ্টি করে।

মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক শুক্রবার বলেন, “আমরা বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি, তারা এই সিদ্ধান্তে সমর্থন দিয়েছে।”

তিনি যোগ করেন, “এখন বড় কোম্পানিগুলো বিদেশি কর্মীকে ট্রেনিং দিয়ে আমেরিকানদের চাকরি কেড়ে নিতে পারবে না। তারা সরকারকে ১ লাখ ডলার দিতে হবে, এবং কর্মীকে আমেরিকানদের সমান বেতন দিতে হবে।” এই ফি থেকে মার্কিন কোষাগারে বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এইচ-১বি ভিসার এই নতুন নিয়ম নিয়ে ভারত ও চীনের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো আসেনি। রয়টার্স ওয়াশিংটনের ভারতীয় দূতাবাস এবং নিউইয়র্কের চীনা কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, কিন্তু তাৎক্ষণিক সাড়া পায়নি।

তবে ভারতীয় মিডিয়া যেমন এনডিটিভি জানিয়েছে, এই ফির ফলে ভারতীয় যুবকদের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। গ্রিনকার্ডের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার সময়ে ভিসা নবায়নের খরচ এখন ১ লাখ ডলার হলে হাজার হাজার পরিবারের উপর অর্থনৈতিক চাপ পড়বে।

এছাড়া, ট্রাম্প একই দিনে আরেকটি নির্বাহী আদেশে “ট্রাম্প গোল্ড কার্ড” ভিসা প্রোগ্রাম চালু করেছেন। এতে ধনী বিদেশিরা ১ মিলিয়ন ডলার ফি দিয়ে দ্রুত ভিসা পাবেন, যা আমেরিকায় বিনিয়োগ করে চাকরি সৃষ্টির উপর জোর দেবে। সরকারি সূত্র বলছে, একটি “প্ল্যাটিনাম কার্ড”ও চলছে, যার ফি ৫ মিলিয়ন ডলার—যা ইনভেস্টর ভিসার বিকল্প হবে।

তবে এই ফির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলের নীতিনির্ধারক অ্যারন রাইকলিন-মেলনিক বলেন, “প্রেসিডেন্টের এই ১ লাখ ডলার ফি আরোপের কোনো আইনি অধিকার নেই। শুধু কংগ্রেসই আবেদনপ্রক্রিয়ার খরচ নির্ধারণ করতে পারে।” প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্র ৬৫ হাজার H-1B ভিসা দেয়, যার মধ্যে ২০ হাজার উচ্চশিক্ষিতদের জন্য। এই নতুন নিয়ম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে, কিন্তু এটি ট্রাম্পের অভিবাসন-দমন নীতির সর্বশেষ অধ্যায়।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
ফিচার ব্যবসা-বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারো বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। সর্বশেষ কার্যদিবসে আইসিই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার