দুর্গাপূজায় ভারতে ১২০০ টন ইলিশ রপ্তানির সিদ্ধান্ত
আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ এ বছর ভারতে ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ মাছ রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করেছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশের ইলিশের ব্যাপক চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতি বছর দুর্গাপূজার সময় ভারতে ইলিশ রপ্তানি করে বাংলাদেশ, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে এই মাছের চাহিদা অত্যন্ত বেশি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়েছে, আগ্রহী রপ্তানিকারকরা আগামী ১১ সেপ্টেম্বর অফিস চলাকালীন হার্ড কপিতে আবেদন জমা দিতে পারবেন। আবেদনের সঙ্গে হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, এক্সপোর্ট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (ইআরসি), আয়কর সার্টিফিকেট, ভ্যাট সার্টিফিকেট, বিক্রয় চুক্তিপত্র এবং মৎস্য অধিদপ্তরের লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় দলিলাদি জমা দিতে হবে।
এবার প্রতি কেজি ইলিশের ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১২.৫ মার্কিন ডলার। যারা ইতিমধ্যে আহ্বান ছাড়াই আবেদন জমা দিয়েছেন, তাদেরও নতুন করে আবেদন করতে হবে। এ ছাড়া, রপ্তানির ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। অনুমোদিত পরিমাণের বেশি ইলিশ রপ্তানি করা যাবে না, অনুমতি হস্তান্তর করা যাবে না এবং অনুমোদিত রপ্তানিকারক ছাড়া সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে রপ্তানি নিষিদ্ধ। সরকার যেকোনো সময় রপ্তানি বন্ধ করার অধিকারও সংরক্ষণ করেছে।
গত বছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রথমে ৩ হাজার টন ইলিশ রপ্তানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পরে তা কমিয়ে ২ হাজার ৪২০ টন করা হয়। সে সময় ৪৯টি প্রতিষ্ঠানকে রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এবার রপ্তানির পরিমাণ গত বছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে, যা বাজার বিশ্লেষকদের মতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানো ও মূল্য স্থিতিশীল রাখার কৌশল হতে পারে।
বাংলাদেশের ইলিশ শুধু একটি মাছই নয়, এটি দুই বাংলার সংস্কৃতি ও উৎসবের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। দুর্গাপূজার এই সময়ে ভারতের বাজারে বাংলাদেশের ইলিশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এই রপ্তানি দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে, কঠোর শর্ত ও সীমিত পরিমাণের কারণে রপ্তানিকারকদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে।





