ডেঙ্গু জ্বরে ২৪ ঘণ্টায় তিনজনের মৃত্যু: চলতি বছরে আক্রান্ত ৩৪ হাজার ছাড়াল!
গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন, এবং এই সময়ে ৫৮০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর ফলে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৫ জনে, এবং শনাক্ত রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ৩৪,৪১১ জনে।
রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত নিয়মিত ডেঙ্গু বিষয়ক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১২৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৯৪ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৮৫ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৮৫ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৮০ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩২ জন, রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৫৫ জন, রংপুর বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩ জন, সিলেট বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৭ জন রয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৫২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ৩২,৭০৫ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১,৫৭১ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের মধ্যে ৬৬.৬ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৩.৪ শতাংশ নারী। এই তথ্য থেকে বোঝা যায়, পুরুষরা ডেঙ্গুতে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন, যা মশার কামড়ের সংস্পর্শে আসার ধরন এবং জীবনযাত্রার কারণে হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এডিস মশার বিস্তার রোধে পানি জমে থাকা এলাকা পরিষ্কার করা, মশারি ব্যবহার এবং সচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জনগণকে মশাবাহিত এই রোগ প্রতিরোধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।





