সমুদ্র সংরক্ষণ ও নীল অর্থনীতি: বাংলাদেশের ভূমিকা তুলে ধরলেন রিজওয়ানা হাসান
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫) জাপানের টোকিওতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চ পর্যায়ের সভায় বাংলাদেশের পরিবেশ উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান ভার্চুয়ালি অংশ নেন। ‘ড্রাইভিং ওশেন লিডারশিপ অ্যান্ড ইনোভেশন: অ্যাডভান্সিং গভার্নেন্স, ব্লু ইকোনমি, অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স টু অ্যাচিভ থার্টি বাই থার্টি’ শীর্ষক এই অধিবেশনে তিনি সমুদ্র সংরক্ষণ, নীল অর্থনীতি এবং প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলায় বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
‘ওশেন ডিকেড ফিফথ ফাউন্ডেশনস ডায়ালগ– হাইলেভেল রাউন্ডটেবল উইথ অ্যাম্বাসেডরস, এক্সপার্টস অ্যান্ড প্র্যাকটিশনার্স’ শীর্ষক সভায় রিজওয়ানা হাসান বলেন, বৈশ্বিক প্লাস্টিক দূষণে বাংলাদেশ নবম স্থানে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই দূষণের একটি বড় অংশ পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে আসে। প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলায় চলমান বৈশ্বিক চুক্তিতে ভৌগোলিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য বিশেষ বিধান রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি। এছাড়া, তিনি জাহাজভাঙা শিল্পকে বাংলাদেশের উপকূলীয় পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং হংকং কনভেনশনকে এই সমস্যা সমাধানে ‘অপর্যাপ্ত’ বলে সমালোচনা করেন।
রিজওয়ানা হাসান জানান, বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের অর্থনীতি, আঞ্চলিক সংযোগ এবং টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সরকার ইতোমধ্যে ‘অ্যাসেসমেন্ট অব কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন বায়োডাইভার্সিটি রিসোর্সেস অ্যান্ড ইকোসিস্টেম’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে জাতীয় ডাটাবেজ তৈরি, সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং পর্যবেক্ষণ প্রটোকল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং এর প্রভাব নিয়ে গবেষণাও সম্পন্ন হয়েছে।
বাংলাদেশের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের অনন্য সম্পদ তুলে ধরে তিনি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সামুদ্রিক মাছের বিপুল সম্ভাবনা এখনও পুরোপুরি মূল্যায়িত হয়নি। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি তিনি টেকসই সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। এটি বাংলাদেশের নীল অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।





