উচ্চ কোলেস্টেরলের নীরব হুমকি
আধুনিক জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসের কারণে আমাদের শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা দ্রুত বাড়ছে, যা হৃদরোগের ঝুঁকির অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে। এই উচ্চ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা তাই অত্যন্ত জরুরি। প্রায়শই উচ্চ কোলেস্টেরল কোনো স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই শরীরে ক্ষতি করে, যার জন্য এটিকে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। তবে ত্বকে কিছু দৃশ্যমান সংকেত প্রকাশ পায়, যা রক্ত পরীক্ষার আগেই উচ্চ কোলেস্টেরল শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে। চলুন জেনে নিই ত্বকে উচ্চ কোলেস্টেরলের এই লক্ষণগুলো।
ত্বকে হলুদ বা কমলা রঙের ফোঁড়া বা জমাট দেখা দেওয়া উচ্চ কোলেস্টেরলের একটি লক্ষণ। এগুলো জ্যান্থোমা নামে পরিচিত এবং চর্বি জমার ফলে তৈরি হয়। সাধারণত কনুই, হাঁটু, হাত, পা বা নিতম্বে এগুলো দেখা যায়। এই ফোঁড়াগুলো ব্যথাহীন হলেও শরীরে কোলেস্টেরলের উচ্চ মাত্রার ইঙ্গিত দেয়। এদের আকার ছোট দানা থেকে বড় ফোঁড়া পর্যন্ত হতে পারে।
চোখের উপরের বা নীচের পাতায় নরম, হলুদাভ সমতল দাগ বা ব্রণের মতো বৃদ্ধি দেখা যায়, যা জ্যান্থেলাসমা নামে পরিচিত। এগুলো প্রায়শই উচ্চ কোলেস্টেরলের সঙ্গে যুক্ত। এই দাগগুলো শরীরে চর্বির অস্বাভাবিক জমার সংকেত দেয় এবং সাধারণত চোখের চারপাশে স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
চোখের কর্নিয়ার চারপাশে সাদা, ধূসর বা নীলাভ বলয় দেখা দেওয়া, যাকে আর্কাস সেনিলিস বলা হয়, উচ্চ কোলেস্টেরলের আরেকটি লক্ষণ। তরুণদের ক্ষেত্রে এটি প্রায়শই পারিবারিক হাইপারকোলেস্টেরোলেমিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। বয়স্কদের মধ্যে এটি বার্ধক্যের সঙ্গেও দেখা দিতে পারে, তবে কোলেস্টেরলের মাত্রা পরীক্ষা করা জরুরি।
শরীরের কিছু অংশ, বিশেষ করে পায়ের আঙ্গুল বা তলায় ত্বক অস্বাভাবিকভাবে ফ্যাকাশে বা বিবর্ণ হয়ে যেতে পারে। ত্বক চকচকে বা টানটান দেখাতে পারে। এটি ঘটে কারণ উচ্চ কোলেস্টেরল রক্তনালীগুলোকে সংকুচিত বা বন্ধ করে দেয়, যা রক্ত প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। এর ফলে ত্বকের রঙে পরিবর্তন আসে।
উচ্চ কোলেস্টেরল ধমনীগুলোকে শক্ত ও সংকীর্ণ করে, যা পায়ের পেশীতে রক্ত প্রবাহ কমিয়ে দেয়। এর ফলে পায়ে ব্যথা, খিঁচুনি, ভারী ভাব বা অসাড়তা অনুভূত হতে পারে। এছাড়া, রক্ত প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে পায়ের ক্ষত সারতে বেশি সময় লাগতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে, হাঁটার সময় ব্যথা বা ক্লান্তি অনুভূত হয়, যা পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজের লক্ষণ হতে পারে।
যদি ত্বকে এই ধরনের কোনো লক্ষণ দেখা যায়, তবে তা উপেক্ষা করা উচিত নয়। এগুলো সবসময় উচ্চ কোলেস্টেরলের কারণে নাও হতে পারে, তবে একজন চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।





