ফেব্রুয়ারিতে ভোটের আয়োজন: ইসির ২৪ দফা রোডম্যাপ ঘোষণা, তফসিল ডিসেম্বরে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ২৪টি গুরুত্বপূর্ণ কাজকে প্রাধান্য দিয়ে একটি বিস্তারিত রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ এই রোডম্যাপ উন্মোচন করেন। এই পরিকল্পনায় নির্বাচনকে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক করার জন্য বিভিন্ন ধাপে কাজের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে ভোটারদের অধিকার রক্ষা এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ, ভোটার তালিকার চূড়ান্তকরণ, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন, দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন, নির্বাচনী আইন সংস্কার এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন। ইসি জানিয়েছে, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে, রমজান শুরুর আগেই (যা মার্চের শুরুতে শুরু হতে পারে)।
তফসিল ঘোষণা করা হবে চলতি বছরের ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে, যা ভোটের প্রায় দুই মাস আগে। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুস এই তারিখ নিশ্চিত করে ইসিকে চিঠি পাঠিয়েছেন, এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালও এ বিষয়ে সভায় আলোচনা করে নিশ্চিত করেছেন।
কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হলো: অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ, ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও হালনাগাদ, নির্বাচনী আইনবিধি সংস্কার, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন, নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ, ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা, পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা, পর্যবেক্ষক সংস্থা ও দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের অনুমোদন, নির্বাচনের জন্য জনবল নিয়োগ ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি, নির্বাচনী দ্রব্যাদি সংগ্রহ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যক্রম, অন্যান্য আইনবিধি একীভূতকরণ, ম্যানুয়েল নির্দেশিকা, পোস্টার ও পরিচয়পত্র মুদ্রণ, প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের উপযোগীকরণ, নির্বাচনী বাজেট বরাদ্দ, প্রচারণা ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা সুসংহতকরণ, ডিজিটাল মনিটরিং স্থাপন ও যন্ত্রপাতি সংযোজন, বেসরকারি প্রাথমিক ফলাফল প্রচার, ফলাফল প্রদর্শন, প্রকাশ ও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারসহ বিবিধ কাজ।
এছাড়া, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে মোবাইল অ্যাপ, ট্র্যাকিং সিস্টেম এবং ডিজিটাল মনিটরিংকে জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে নির্বাচন আরও স্বচ্ছ হয়।
দল ও অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ শুরু হবে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে এবং চলবে দেড় মাস। ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ চলমান; দ্বিতীয় ধাপের সম্পূরক খসড়া তালিকা ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে, যা ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত হবে। ৩১ অক্টোবরের সম্পূরক তালিকার পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ৩০ নভেম্বর।
নির্বাচনী আইনবিধি সংস্কারের মধ্যে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ আইন, ভোটার তালিকা আইন, ভোটকেন্দ্র নীতিমালা, পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক নীতিমালা, নির্বাচন পরিচালনা (সংশোধন) ২০২৫, নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন ১৯৯১ এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন ২০০৯-এর সংশোধন প্রস্তাব ৩১ আগস্টের মধ্যে প্রণয়ন করা হবে। এগুলোর বেশিরভাগ আইন মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন, যা ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার আশা।
রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন মধ্য সেপ্টেম্বরে প্রাথমিকভাবে এবং সেপ্টেম্বরের শেষে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হবে। সীমানা নির্ধারণ চূড়ান্ত হয়ে গেজেট প্রকাশিত হবে সেপ্টেম্বরের শুরুতে, এবং জিআইএস ম্যাপ ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রস্তুত ও প্রকাশ করা হবে।
পোস্টাল ভোটিংয়ের জন্য প্রকল্প অনুমোদন, সফটওয়্যার চূড়ান্তকরণ, মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, নিবন্ধন ও ট্র্যাকিং মডিউল অক্টোবরে সম্পন্ন হবে। প্রবাসীদের জন্য নভেম্বরে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে, এবং কারাবন্দীদের জন্য ভোটের দুই সপ্তাহ আগে। এছাড়া, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেপ্টেম্বরে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, তফসিল ঘোষণার ১৫ দিন আগে এবং পরেও।
এই রোডম্যাপের মাধ্যমে ইসি নির্বাচনকে আরও আধুনিক ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্য নিয়েছে, যাতে সকল অংশীজনের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়।





