ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠকের আগে পুতিনের কূটনৈতিক তৎপরতা
ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে, আর এরই মধ্যে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিজস্ব কূটনৈতিক তৎপরতায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
সোমবার (১৮ আগস্ট) ক্রেমলিনের টেলিগ্রাম চ্যানেলের তথ্য অনুযায়ী, পুতিন একাধিক দেশের নেতার সঙ্গে ফোনে আলোচনা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট এমোমালি রহমোন।
এই আলোচনায় পুতিন গত শুক্রবার আলাস্কায় অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া শীর্ষ বৈঠকের ফলাফল তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তবে কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। এই বৈঠকে পুতিনের জন্য মার্কিন সেনাদের বিছানো লাল গালিচা এবং ট্রাম্পের উষ্ণ অভ্যর্থনা ইউক্রেনীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এদিকে, সোমবার ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন জেলেনস্কি। এই বৈঠকে ইউরোপীয় নেতারাও উপস্থিত থাকবেন, যার মধ্যে রয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মার্জ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টাব এবং ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে। এই বৈঠকের লক্ষ্য ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান নিয়ে আলোচনা, যদিও গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনা এখনও অনেকের মনে রয়েছে। সে সময় ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জেলেনস্কিকে ‘কৃতজ্ঞতাহীন’ বলে সমালোচনা করেছিলেন, যার পরে জেলেনস্কি দুঃখপ্রকাশ করেন।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে বলছেন, আলোচনার টেবিলে বসা সবসময়ই গঠনমূলক। তবে ব্যক্তিগতভাবে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, এই বৈঠকগুলো হয়তো রাশিয়ার শর্তে যুদ্ধ শেষ করার পথ তৈরি করতে পারে।
একজন ইউক্রেনীয় সংসদ সদস্য স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, “বড় বিপদ এড়ানো গেছে, ট্রাম্প আমাদের বিক্রি করেননি।” তবে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইউক্রেনের ক্রিমিয়া এবং ন্যাটোতে যোগদানের আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করার পরামর্শ দেওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
জেলেনস্কি জোর দিয়ে বলেছেন, রাশিয়াকে যুদ্ধ বন্ধের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে হবে এবং ইউক্রেনের অখণ্ডতা নিয়ে কোনো সমঝোতা হতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, ট্রাম্পের নেতৃত্বে শান্তি আলোচনার জন্য শক্তি ও কূটনৈতিক সক্ষমতা প্রয়োজন। এদিকে, ইউক্রেনের খারকিভে রুশ ড্রোন হামলায় ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনা শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে।





