জীবনযাপন ফিচার স্বাস্থ্য

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে মুক্তি: এই ৫ অভ্যাসে মিলবে আরাম!

অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। অনেকে প্রয়োজন বোধ করলেই গ্যাসের ওষুধ খেয়ে নেন, কিন্তু নিয়মিত ওষুধ সেবনের ফলে শরীরে আয়রনের ঘাটতি, হজমের সমস্যা, এমনকি দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে। তবে জীবনধারায় কিছু সহজ পরিবর্তন আনলে অ্যাসিডিটির সমস্যা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। জেনে নিন গ্যাস্ট্রিক কমানোর ৫টি কার্যকর অভ্যাস।

১. নিয়মিত জীবনযাপন ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ

অনিয়মিত জীবনযাপন অ্যাসিডিটির অন্যতম কারণ। রাত জাগার অভ্যাস ত্যাগ করুন, কারণ মাঝরাতে খাবার খাওয়ার তাগিদ বাড়ে, যা অ্যাসিডিটির ঝুঁকি বাড়ায়। খাওয়ার পরপরই ঘুমানোর অভ্যাসও ক্ষতিকর। সকালের নাশতা বাদ দেওয়া বা দেরিতে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাসও পরিহার করুন।

মানসিক চাপ অ্যাসিডিটি বাড়াতে পারে। তাই যোগব্যায়াম, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, বা হালকা শরীরচর্চা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত শরীরচর্চা হজমশক্তি উন্নত করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে। অতিরিক্ত ওজন অ্যাসিডিটির ঝুঁকি বাড়ায়, তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম অ্যাসিডিটি কমাতে সহায়ক।

২. খাওয়ার পর সঠিক অভ্যাস

খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়া বা ভারী ব্যায়াম করা থেকে বিরত থাকুন। খাবার খাওয়ার পর অন্তত ২-৩ ঘণ্টা শোয়ার আগে অপেক্ষা করুন। ভারী ব্যায়ামের জন্য খাওয়ার পর কমপক্ষে ২ ঘণ্টা অপেক্ষা করা উচিত। তবে খাওয়ার পর ১০-১৫ মিনিট ধীর গতিতে হাঁটা হজমে সহায়ক এবং অ্যাসিডিটি কমাতে ভূমিকা রাখে। এই অভ্যাস পাকস্থলীর অ্যাসিডকে খাদ্যনালীতে উঠতে বাধা দেয়।

৩. অ্যাসিডিটি বাড়ায় এমন খাবার এড়িয়ে চলুন

কিছু খাবার অ্যাসিডিটির ঝুঁকি বাড়ায়। ভাজাপোড়া, তেল-চর্বিযুক্ত খাবার, টক ফল (যেমন লেবু, কমলা), টক স্বাদের পানীয়, ভিনেগার, সস, কেচাপ, পেঁয়াজ, রসুন, চকলেট, চা-কফি এবং কোমল পানীয় এড়িয়ে চলুন। বিশেষ করে খালি পেটে এসব খাবার গ্রহণ অ্যাসিডিটি বাড়াতে পারে।

দুধ বা দুধজাতীয় খাবার কিছু মানুষের জন্য অ্যাসিডিটির কারণ হতে পারে। অতিরিক্ত আঁশযুক্ত খাবার (যেমন অতিরিক্ত শাকসবজি বা গোটা শস্য) কারও কারও জন্য সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই আঁশযুক্ত খাবার পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো। এছাড়া অ্যালকোহল এবং ধূমপান অ্যাসিডিটির ঝুঁকি বাড়ায়, তাই এগুলো এড়িয়ে চলুন।

৪. খাবার ও পানীয় গ্রহণের সঠিক সময়

খাবারের সঙ্গে একসঙ্গে পানি বা অন্য তরল পান করা অ্যাসিডিটির কারণ হতে পারে। খাওয়ার সময় পানি পানের অভ্যাস ত্যাগ করুন। খাবারের ১৫-২০ মিনিট আগে বা পরে পানি, উদ্ভিজ্জ দুধ (যেমন বাদাম দুধ), বা মিষ্টি ফলের রস (যেমন আপেল বা নাশপাতির রস) পান করুন। এসব পানীয় অ্যাসিডিটি কমাতে সহায়ক।

আদা চা বা ক্যামোমিল চা অ্যাসিডিটি কমাতে বিশেষভাবে কার্যকর। খাওয়ার ১৫-২০ মিনিট পর এই চা পান করলে হজমশক্তি উন্নত হয় এবং পাকস্থলীর অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে অতিরিক্ত চিনিযুক্ত চা বা পানীয় এড়িয়ে চলুন।

৫. ধীরে ও চিবিয়ে খাওয়া

দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকা অ্যাসিডিটির ঝুঁকি বাড়ায়। ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের মতো ওজন কমানোর পদ্ধতি অনেকের জন্য উপকারী হলেও দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে অ্যাসিডিটি বাড়তে পারে। তাই দিনে ৪-৫ বার অল্প পরিমাণে খাবার খান। একবারে বেশি খাবার গ্রহণ করলে পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি হতে পারে।

খাবার ধীরে ধীরে, ভালো করে চিবিয়ে খান। তাড়াহুড়ো করে খাওয়া হজমে বাধা সৃষ্টি করে এবং অ্যাসিডিটির ঝুঁকি বাড়ায়। প্রতিবার খাওয়ার সময় পেটের একটি অংশ খালি রাখুন, যাতে হজম প্রক্রিয়া সহজ হয়। ছোট ছোট মিল, যেমন ফল, বাদাম, বা হালকা স্ন্যাকস, দিনের বিভিন্ন সময়ে খাওয়া যেতে পারে।

অ্যাসিডিটি কমাতে আরও কিছু অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। ঢিলেঢালা পোশাক পরুন, কারণ টাইট পোশাক পাকস্থলীর ওপর চাপ সৃষ্টি করে অ্যাসিড রিফ্লাক্স বাড়াতে পারে। ঘুমানোর সময় মাথার নিচে একটি অতিরিক্ত বালিশ ব্যবহার করুন, যাতে অ্যাসিড খাদ্যনালীতে উঠতে না পারে। এছাড়া ধূমপান এবং অ্যালকোহল পুরোপুরি ত্যাগ করুন, কারণ এগুলো পাকস্থলীর আস্তরণের ক্ষতি করে।

যদি অ্যাসিডিটির সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে থাকে বা তীব্র হয়, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জীবনধারার এই সহজ পরিবর্তনগুলো ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত করলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আজই শুরু করুন এবং সুস্থ জীবনের দিকে এগিয়ে যান!

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
ফিচার ব্যবসা-বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারো বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। সর্বশেষ কার্যদিবসে আইসিই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার