মোদীর মাইলফলক: ইন্দিরাকে ছাড়িয়ে ভারতের দ্বিতীয় দীর্ঘতম প্রধানমন্ত্রী!
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টানা দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জন করেছেন। ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদে ৪,০৭৮ দিন পূর্ণ করেছেন, যা ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ৪,০৭৭ দিনের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে তিনি ভারতের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বাধিক সময় ধরে একটানা প্রধানমন্ত্রীত্ব পালনকারী নেতা হিসেবে স্থান করে নিয়েছেন।
প্রথম স্থানে রয়েছেন জওহরলাল নেহরু, যিনি ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত টানা ১৭ বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
নরেন্দ্র মোদী শুধু ইন্দিরা গান্ধীর রেকর্ডই ভেঙেছেন তা নয়, তিনি ভারতের স্বাধীনতার পর সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকারী অ-কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।
এছাড়া, তিনি অ-হিন্দিভাষী রাজ্য (গুজরাট) থেকে নির্বাচিত দীর্ঘতম মেয়াদে দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রী এবং দুইবার টানা সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নির্বাচিত হওয়া একমাত্র অ-কংগ্রেস নেতা। তিনি জওহরলাল নেহরুর পর দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একটি দলের (ভারতীয় জনতা পার্টি – বিজেপি) নেতৃত্বে টানা তিনটি লোকসভা নির্বাচনে (২০১৪, ২০১৯, এবং ২০২৪) জয়লাভ করেছেন।
গুজরাটের ভাদনগরে ১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণকারী নরেন্দ্র মোদীর জীবনযাত্রা ছিল অত্যন্ত সাধারণ। শৈশবে তিনি তার বাবার সঙ্গে রেলস্টেশনে চা বিক্রি করতেন। অল্প বয়সে তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘে (আরএসএস) যোগ দেন এবং পরবর্তীতে বিজেপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন।
২০০১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যেখানে তিনি রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০১৪ সালে বিজেপির নেতৃত্বে জোট সরকার গঠনের মাধ্যমে তিনি প্রথমবারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন।
নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত বিগত এক দশকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ও উদ্যোগ প্রত্যক্ষ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’, ‘আয়ুষ্মান ভারত’, এবং ‘গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স’ (জিএসটি)-এর মতো উদ্যোগ। তাঁর নেতৃত্বে ভারতের অর্থনীতি বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে।
এছাড়া, তিনি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভারতের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের ভূমিকা তুলে ধরা।
তবে, তাঁর নেতৃত্বের সময় বেশ কিছু বিতর্কও দেখা দিয়েছে। অর্থনৈতিক নীতি, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ), এবং কৃষি আইনের মতো বিষয়গুলো ব্যাপক আলোচনা ও বিরোধিতার জন্ম দিয়েছে।
তা সত্ত্বেও, মোদীর জনপ্রিয়তা এবং রাজনৈতিক প্রভাব ভারতীয় রাজনীতিতে একটি শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে।
নরেন্দ্র মোদীর এই অর্জন ভারতীয় রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব এবং নেতৃত্বের প্রমাণ বহন করে। তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা এবং কৃতিত্ব ভারতের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।





