সচিবালয়ে শিক্ষার্থীদের তাণ্ডব: গাড়ি ভাঙচুর, লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেডে উত্তপ্ত পরিস্থিতি
রাজধানীর বাংলাদেশ সচিবালয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী সচিবালয়ের এক নম্বর গেট দিয়ে জোরপূর্বক প্রবেশ করে এবং প্রায় ১০টি গাড়ি ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যার ফলে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে, যার পর শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভ মূলত উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। এই দুর্ঘটনায় ৩১ জনের মৃত্যু ও শতাধিক আহত হওয়ার ঘটনায় সঠিক তথ্য প্রকাশ, ক্ষতিপূরণ, এবং শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার ও শিক্ষা সচিব সিদ্দিক জোবায়েরের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া, গত এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফল পুনর্মূল্যায়নের দাবিও তাদের আন্দোলনের অন্যতম কারণ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, বিকেলে শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের এক নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বাধা দেয়। কিন্তু বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী বাধা উপেক্ষা করে ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং সেখানে থাকা সরকারি ও ব্যক্তিগত গাড়িতে ভাঙচুর চালায়। এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমাদের দাবি শোনা হচ্ছে না। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কথা বলতে এসেছিলাম, কিন্তু কর্তৃপক্ষের নীরবতায় আমাদের ক্ষোভ বেড়েছে।”
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী প্রথমে শিক্ষার্থীদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন, এবং কিছুক্ষণের মধ্যে তারা সচিবালয় এলাকা থেকে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছি। কিন্তু গাড়ি ভাঙচুর ও আক্রমণাত্মক আচরণের কারণে বাধ্য হয়ে ব্যবস্থা নিতে হয়েছে।”
আহত শিক্ষার্থীদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে, সচিবালয়ের সামনে বিক্ষোভের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের একাংশ ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে সরকারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ঘটনার ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক ভিডিও বার্তায় বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের দাবি শুনছি এবং বিমান দুর্ঘটনার তদন্তে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করব।” তিনি সকলকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। এদিকে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্থগিত এইচএসসি পরীক্ষার নতুন তারিখ শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।
এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ শিক্ষার্থীদের দাবিকে যৌক্তিক মনে করলেও, গাড়ি ভাঙচুর ও সহিংসতার সমালোচনা করেছেন। উত্তরার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ বোধগম্য, কিন্তু সহিংসতা সমাধান নয়। সরকারের উচিত দ্রুত তাদের দাবি পূরণের পদক্ষেপ নেওয়া।”





