ট্রাম্পের বড় ঘোষণা: রাশিয়া নিয়ে আসছে নতুন নীতি!
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর মাধ্যমে ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহ করবে, যার সম্পূর্ণ খরচ বহন করবে ন্যাটো। এই অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে প্রতিরক্ষামূলক প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র এবং আক্রমণাত্মক মাঝারি পাল্লার রকেট, যার মূল্য প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার। ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, আগামী সোমবার তিনি রাশিয়া সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেবেন, যা ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক নজর কাড়বে।
ট্রাম্প এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমরা অস্ত্র ন্যাটোতে পাঠাচ্ছি, এবং ন্যাটো এই অস্ত্রের সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করবে। তারপর ন্যাটো সেগুলো ইউক্রেনে হস্তান্তর করবে।” এই পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে সরাসরি অস্ত্র সহায়তা দেওয়ার পরিবর্তে ন্যাটোকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করছে, যা মার্কিন অস্ত্র মজুতের উপর চাপ কমাবে।
দুটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এই অস্ত্র প্যাকেজে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র এবং মাঝারি পাল্লার রকেট অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, যার মোট মূল্য প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার। ট্রাম্প প্রেসিডেনশিয়াল ড্রডাউন অথরিটি (পিডিএ) ব্যবহার করে এই সহায়তা প্রদান করবেন, যা প্রেসিডেন্টদের জরুরি ভিত্তিতে মিত্র দেশকে মার্কিন অস্ত্র মজুত থেকে সরাসরি সহায়তা দেওয়ার ক্ষমতা দেয়।
ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি তীব্র হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “পুতিন যুদ্ধ বন্ধে কোনো অগ্রগতি দেখাচ্ছেন না। তিনি মানুষের প্রতি অমানবিক আচরণ করছেন।” ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর থেকে চলমান এই যুদ্ধে রাশিয়া সম্প্রতি ইউক্রেনের বেসামরিক এলাকায় ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই ঘোষণা ইউক্রেনের প্রতি মার্কিন সমর্থনের একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন শুধুমাত্র সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে অনুমোদিত অস্ত্র ইউক্রেনে পাঠিয়েছিল। তবে এবার তিনি নিজের ক্ষমতাবলে সরাসরি অস্ত্র সহায়তার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ তার পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, যেখানে তিনি ইউক্রেনে অস্ত্র ও অর্থ সহায়তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে যৌথভাবে কাজ করব। প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আমাদের শহর ও বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।” জেলেনস্কি এর আগে মার্কিন অস্ত্র ক্রয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যাতে ইউক্রেন নিজ খরচে প্যাট্রিয়ট সিস্টেম কিনতে পারে।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এই অস্ত্র সহায়তার বিস্তারিত নিশ্চিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
রাশিয়ার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র সরবরাহ কখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এই বিষয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।” তিনি ট্রাম্পের বক্তব্যকে “পরস্পরবিরোধী” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, “ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ন্যাটোর মাধ্যমে অস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে তিনি মার্কিন অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করছেন এবং একই সঙ্গে ইউক্রেনকে সমর্থন দিচ্ছেন। তবে সোমবারের ঘোষণা এই যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি পরিবর্তন করতে পারে।”
ট্রাম্পের ঘোষিত সোমবারের বিবৃতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা বা ইউক্রেনের জন্য আরও সামরিক সহায়তার বিষয়ে হতে পারে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে পুতিনের প্রতি তার ক্ষোভ এবং ইউক্রেনের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত স্পষ্ট।





