বাংলাদেশি পণ্যে মার্কিন শুল্ক: আলোচনার দ্বার খোলা, আশাবাদী বাণিজ্য সচিব
বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিকৃত পণ্যের উপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের মার্কিন ঘোষণা নিয়ে আলোচনার পথ এখনও উন্মুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, চলমান আলোচনা থেকে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যাবে, যা বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য সুফল বয়ে আনবে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বাণিজ্য সচিব বলেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে কাজ করছি। এ লক্ষ্যে গম, সয়াবিন, এবং বিমানের মতো মার্কিন পণ্য আমদানিতে ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বাংলাদেশ বোয়িং বিমান ক্রয় এবং তুলা আমদানি বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে। খাদ্যশস্য ক্রয়ের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এসব বিষয়ে ছাড় দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের কোনো বাধা নেই।”
গত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে জানিয়েছেন, আগামী ১ আগস্ট থেকে বাংলাদেশি পণ্যের উপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে। এই ঘোষণা বাংলাদেশের রপ্তানি খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির অন্যতম বৃহৎ বাজার।
বাণিজ্য সচিব জানান, শুল্ক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল বর্তমানে ওয়াশিংটনে রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা আশাবাদী যে আগামীকালের (৯ জুলাই) বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হবে। আমাদের প্রস্তাবগুলো বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে সহায়ক হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
অর্থনীতিবিদদের মতে, শুল্ক আরোপ কার্যকর হলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে বাণিজ্য সচিবের আশাবাদ এবং চলমান আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক হ্রাস বা বাণিজ্যিক সুবিধা অর্জনের সম্ভাবনা এখনও রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার এই সুযোগ কাজে লাগাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।





