সরকারি চাকরিতে কঠোর শৃঙ্খলা: নতুন অধ্যাদেশে চার অপরাধে শাস্তির বিধান
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছে, যা সরকারি কর্মচারীদের জন্য কঠোর শৃঙ্খলা ও দায়বদ্ধতার বিধান প্রবর্তন করেছে। সোমবার (২৬ মে) সন্ধ্যায় এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়। গত বৃহস্পতিবার (২২ মে) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।
নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের চারটি কার্যক্রমকে অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করে শাস্তির বিধান করা হয়েছে। এগুলো হলো:
১. অনানুগত্য বা শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী কাজে জড়িত হওয়া, যা অন্য কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ বা কর্তব্যে বাধা সৃষ্টি করে।
২. যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া কর্মস্থল থেকে অনুপস্থিত থাকা বা কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হওয়া।
৩. অন্য কর্মচারীদের কর্মস্থল থেকে অনুপস্থিত থাকতে বা কর্তব্য পালনে বিরত থাকতে উসকানি দেওয়া।
৪. কোনো কর্মচারীকে তার কর্তব্য পালনে বাধা দেওয়া।
এই অপরাধগুলোর জন্য দোষী সাব্যস্ত হলে সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই অধ্যাদেশ সচিবালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক বিতর্ক ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। গত কয়েকদিন ধরে সচিবালয়ে এই অধ্যাদেশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভকারীদের একজন, মো. শফিকুল ইসলাম, বলেন, “এই অধ্যাদেশ আমাদের অধিকার ও কাজের পরিবেশের জন্য হুমকি। আমরা এর প্রত্যাহার চাই।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অধ্যাদেশ সরকারি চাকরিতে শৃঙ্খলা ও দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে জারি করা হলেও, এটি কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়াতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. নাসিমা বেগম বলেন, “অধ্যাদেশটি সুশাসনের জন্য ইতিবাচক হতে পারে, তবে কর্মচারীদের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা ছাড়া এটি বাস্তবায়ন করা চ্যালেঞ্জিং হবে।”
সাংবাদিকদের প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী গতকাল বলেছিলেন, এই অধ্যাদেশ সময়ের প্রয়োজনে জারি করা হয়েছে। তবে, বিক্ষোভকারীদের উদ্বেগ বিবেচনায় সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।





