ছাত্র উপদেষ্টাদের সম্মানহানি নয়: এনসিপির সঙ্গে যুক্ত করার নিন্দা হাসনাত আবদুল্লাহর
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুই ছাত্র উপদেষ্টাকে জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সব পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে উল্লেখ করে তাদের সম্মানহানি না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এনসিপির সঙ্গে তাদের যুক্ত করার প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানান। রোববার (২৫ মে) সকালে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলায় সাংগঠনিক সফরের শুরুতে নগরীর বিপ্লব উদ্যানে এক জমায়েতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “ছাত্র উপদেষ্টারা গণ-অভ্যুত্থানের সব পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাদের এই ভূমিকাকে সম্মান করা উচিত। কিন্তু উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাদের এনসিপির সঙ্গে যুক্ত করে সম্মানহানির চেষ্টা চলছে, যা আমরা তীব্র নিন্দা করছি।” তিনি আরও বলেন, এই ধরনের অপপ্রচার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এনসিপি গণতন্ত্র ও সংস্কারের পক্ষে কাজ করছে। আমরা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে বিশ্বাসী নই। ছাত্র উপদেষ্টাদের কাজকে আমরা সম্মান করি এবং তাদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া উচিত।”
এই মন্তব্য এনসিপির আগের অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও ছাত্র উপদেষ্টাদের সঙ্গে এনসিপির সম্পর্কের গুজব অস্বীকার করেছিলেন। হাসনাতের এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, “হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্য এনসিপির অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করেছে। তবে, ছাত্র উপদেষ্টাদের নিয়ে গুজব ছড়ানোর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। এটি তদন্ত করা উচিত।” তিনি আরও বলেন, এই ধরনের অপপ্রচার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
হাসনাত আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, এনসিপি আগামী জাতীয় নির্বাচনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করবে। তিনি জনগণকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য গণতন্ত্র ও জনগণের কল্যাণ। এই পথে আমরা অটল।”





