পাচারকৃত অর্থ ফ্রিজে বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর ভূমিকা ইতিবাচক: গভর্নর
বাংলাদেশ থেকে পাচারকৃত অর্থে বিদেশে গড়ে তোলা সম্পদ ফ্রিজ করতে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর ভূমিকা ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর। শনিবার (২৪ মে) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ক্রেডিট বর্ধিতকরণ প্রকল্প (সিইএস) উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
গভর্নর জানান, “যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ের মতো দেশগুলোতে পাচারকৃত অর্থের সম্পদ চিহ্নিত ও ফ্রিজ করতে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে। আমরা বিশ্বব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, এই প্রক্রিয়া জটিল হলেও, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার সম্ভাবনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে গভর্নর আরও ঘোষণা দেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজিটাল ব্যাংক লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করবে। তিনি বলেন, “ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করতে আমরা নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করছি। এই প্রক্রিয়ায় সুশাসন নিশ্চিত করা হবে।” তিনি জানান, ব্যাংকিং খাতে সংস্কার এবং খেলাপি ঋণ কমানোর পাশাপাশি পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
এই ঘোষণা অর্থনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অর্থনীতিবিদ ড. রশিদুল হক বলেন, “গভর্নরের এই উদ্যোগ দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। তবে, পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা একটি জটিল প্রক্রিয়া, যেখানে আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর সঠিক ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সহযোগিতা এই প্রক্রিয়ার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির (জিএফআই) তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১৪ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। গভর্নর মনসুর এই বিষয়ে বলেন, “আমরা পাচারকৃত অর্থের তালিকা চিহ্নিত করছি এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এই সম্পদ ফ্রিজ ও ফেরত আনার কাজ শুরু করেছি।”





