হার্ভার্ডে বিদেশি নিয়ে শিক্ষার্থী কঠোর ট্রাম্প প্রশাসন, হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়টি আর নতুন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে না, এবং বর্তমানে অধ্যয়নরত প্রায় ৬,৮০০ বিদেশি শিক্ষার্থীকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তর করতে হবে, নতুবা তারা যুক্তরাষ্ট্রে থাকার আইনগত বৈধতা হারাবেন। বৃহস্পতিবার (২২ মে) যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম একটি চিঠিতে হার্ভার্ডের ‘স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর প্রোগ্রাম (এসইভিপি)’ সার্টিফিকেশন বাতিলের ঘোষণা দেন। তিনি হার্ভার্ডের বিরুদ্ধে ‘অ্যান্টি-আমেরিকান ও ইহুদি-বিরোধী’ কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ এনেছেন, যদিও এই অভিযোগের পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। এই সিদ্ধান্ত হার্ভার্ডের ২৭% শিক্ষার্থীকে প্রভাবিত করবে, যারা ১৪০টিরও বেশি দেশ থেকে এসেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট বাজেটের উল্লেখযোগ্য অংশে অবদান রাখেন।
হার্ভার্ডের মুখপাত্র জেসন নিউটন এই পদক্ষেপকে ‘আইনবিরোধী’ ও ‘প্রতিশোধমূলক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, “এই সিদ্ধান্ত হার্ভার্ড সম্প্রদায় এবং আমেরিকার জন্য গুরুতর ক্ষতি বয়ে আনবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মিশনকে বাধাগ্রস্ত করবে।” হার্ভার্ড কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের জন্য দ্রুত গাইডলাইন ও সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এই পদক্ষেপ ট্রাম্প প্রশাসনের হার্ভার্ডের বিরুদ্ধে চলমান প্রচারণার অংশ। এর আগে, প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ফেডারেল তহবিল কাটছাঁট করেছে এবং এর ট্যাক্স-মুক্ত মর্যাদা বাতিলের হুমকি দিয়েছে। হার্ভার্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়টি ইসরাইল-হামাস যুদ্ধ নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রো-প্যালেস্টাইন বিক্ষোভে জড়িত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়নি এবং বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি (ডিইআই) নীতি বজায় রেখেছে।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়েছে। সুইডেনের একজন শিক্ষার্থী লিও গের্ডেন বলেন, “এটি আমার জীবনের সবচেয়ে খারাপ দিন। আমরা আমেরিকার মূল্যবোধের জন্য এখানে এসেছি, কিন্তু এখন আমাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।” কানাডার একজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করে বলেন, “এটি আমাদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য হুমকি। আমরা হার্ভার্ডকে শক্তিশালী করি, কিন্তু এখন আমাদের বহিষ্কার করা হচ্ছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই পদক্ষেপকে ট্রাম্প প্রশাসনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রেহানা পারভীন বলেন, “এটি শুধু হার্ভার্ড নয়, বিশ্বব্যাপী শিক্ষার স্বাধীনতার উপর আঘাত। এর প্রভাব অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও পড়তে পারে।”





