হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিন পেলেন নুসরাত ফারিয়া
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়াকে জামিন দিয়েছেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত। মঙ্গলবার সকালে বিচারক মোস্তাফিজুর রহমানের আদালত এই আদেশ দেন, যা তার ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
গত রোববার (১৮ মে) থাইল্যান্ড যাওয়ার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট থেকে নুসরাত ফারিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ভাটারা থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। মামলাটি গত বছরের জুলাই মাসে রাজধানীর ভাটারা এলাকায় সংঘটিত একটি ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত, যেখানে এনামুল হক নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। এই মামলায় নুসরাত ফারিয়াসহ ১৭ জন শিল্পীকে আসামি করা হয়, যারা কথিতভাবে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সোমবার (১৯ মে) নুসরাতকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিল্লাল ভূঁইয়া তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আদালত প্রাথমিক শুনানির পর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং জামিন শুনানির জন্য ২২ মে তারিখ নির্ধারণ করেন। তবে, মঙ্গলবার সকালে নুসরাতের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন একটি বিশেষ আবেদনের মাধ্যমে জামিনের জন্য শুনানি করেন।
শুনানিতে আইনজীবী দাবি করেন, মামলায় উল্লেখিত ঘটনার সময় (১৯ জুলাই ২০২৪) নুসরাত ফারিয়া বাংলাদেশে ছিলেন না। তিনি ৯ জুলাই থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত কানাডায় অবস্থান করছিলেন, যার প্রমাণপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়। এছাড়া, তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পক্ষে দেওয়া পোস্টগুলোও আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়। পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনেও নিশ্চিত হয়েছে যে, ঘটনার সময় তিনি দেশে ছিলেন না। এই যুক্তি ও প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত ৫,০০০ টাকার মুচলেকায় নুসরাত ফারিয়ার জামিন মঞ্জুর করেন।
নুসরাতের আইনজীবী ফারহান মোহাম্মদ আরাফ বলেন, “আদালত ন্যায়বিচার করেছেন। আমাদের ক্লায়েন্টের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন ছিল, এবং তিনি ঘটনার সময় দেশে না থাকার প্রমাণ আমরা সফলভাবে উপস্থাপন করেছি।”
নুসরাত ফারিয়ার গ্রেপ্তার ও জামিন প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকে তার গ্রেপ্তারকে ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে সমালোচনা করেছেন, আবার কেউ কেউ আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। নুসরাত, যিনি ‘আশিকী’, ‘বাদশা দ্য ডন’, এবং ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য পরিচিত, এই ঘটনার পর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি। তবে তার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, তিনি এই অভিজ্ঞতায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছিলেন।





