ভারতের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা আরও এক মাস বন্ধ
পাকিস্তান ভারতীয় বিমানের জন্য তার আকাশসীমা বন্ধের মেয়াদ আরও এক মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা আগামী সপ্তাহ থেকে কার্যকর হবে। রোববার পাকিস্তানের গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও তীব্র করতে পারে।
গত ২৪ এপ্রিল পাকিস্তান ভারতীয় বিমানের জন্য তার আকাশসীমা বন্ধ করে, যা ২৩ মে পর্যন্ত কার্যকর ছিল। এই পদক্ষেপ ছিল ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পাহালগামে ২২ এপ্রিল ২৬ জন পর্যটকের হত্যাকাণ্ডের পর ভারতের একতরফা আকাশসীমা বন্ধের প্রতিক্রিয়া। ভারত এই হামলার জন্য পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিদের দায়ী করেছে, যদিও পাকিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
নতুন নোটিশ টু এয়ারমেন (NOTAM) জারির মাধ্যমে পাকিস্তানের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এই বন্ধের মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেবে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ভারতীয় এয়ারলাইন্সগুলো ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের রুটে দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে, যা জ্বালানি খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং ফ্লাইটের সময় বাড়াচ্ছে। এয়ার ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিগোর মতো এয়ারলাইন্স ইতোমধ্যে কিছু রুটে রিফুয়েলিং স্টপ যোগ করেছে এবং কিছু গন্তব্যে ফ্লাইট বাতিল করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আকাশসীমা বন্ধ ভারতীয় বিমান শিল্পের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হচ্ছে। ২০১৯ সালে পাকিস্তানের অনুরূপ বন্ধের সময় ভারতীয় এয়ারলাইন্সগুলো প্রায় ৭০০ কোটি রুপির ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল। এবারও দীর্ঘায়িত বন্ধের ফলে এই ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।
পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে অনেকে কাশ্মীর ইস্যুতে চলমান উত্তেজনার অংশ হিসেবে দেখছেন। দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে বাণিজ্য, ভিসা এবং পানি চুক্তির মতো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিকে পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি এখন দুই দেশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নিষেধাজ্ঞা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক বিমান চলাচলের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে, বাংলাদেশের এয়ারলাইন্সগুলোর উপর এর সরাসরি প্রভাব নগণ্য বলে জানা গেছে।





