বাজেটে খরচ কমানোর পরিকল্পনা: মেগাপ্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন তুললেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা
অর্থবছরের বাজেটে খরচ কমানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। রোববার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বাজেটের আকার ছোট করা হবে। এ সময় তিনি চলমান মেগাপ্রকল্পগুলোর প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন।
ড. ওয়াহিদউদ্দিন বলেন, “কিছু মেগাপ্রকল্প আছে, যেগুলো সরকার চালিয়েও যেতে পারছে না, আবার বাতিলও করতে পারছে না। যেমন কর্ণফুলী টানেল। এই টানেল দিয়ে কোথায় যাব? বিপুল অর্থ ব্যয়ে তারকা মানের রিসোর্ট তৈরি করা হয়েছে, কিন্তু চারপাশে শুধুই ফাঁকা প্রান্তর। এখানে কারা যাবে?” তিনি এ ধরনের প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের দুর্বলতার উপর জোর দেন।
তিনি আরও জানান, নতুন বাজেটে অপ্রয়োজনীয় খাতে বরাদ্দ কমানো হবে এবং জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। “আমরা অর্থনীতির ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে চাই। এজন্য ব্যয়বহুল ও কম ফলপ্রসূ প্রকল্পগুলো পুনর্মূল্যায়ন করা হবে,” বলেন তিনি।
অর্থনীতিবিদরা এই ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, মেগাপ্রকল্প বাতিল বা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেছেন। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ড. আবুল কাসেম বলেন, “বাজেট সংকোচন জরুরি, তবে মেগাপ্রকল্পের সঙ্গে জড়িত চুক্তি ও আন্তর্জাতিক ঋণের বিষয়টি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।”
কর্ণফুলী টানেলের মতো প্রকল্প নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। চট্টগ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “টানেলটি যোগাযোগে সুবিধা এনেছে, কিন্তু আশপাশের অবকাঠামো উন্নয়ন না হলে এর পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগবে না।”
এদিকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী জুন মাসে বাজেট ঘোষণার আগে সরকার চলমান প্রকল্পগুলোর একটি তালিকা পর্যালোচনা করবে। এই ঘোষণা দেশের অর্থনৈতিক নীতি ও উন্নয়ন কৌশল নিয়ে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে।





