আমরা অবশ্যই ভারতকে বন্ধু হিসেবে দেখতে চাই: মির্জা ফখরুল
: বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল -বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা আমাদের পায়ের উপরে দাঁড়াতে চাই। আমরা আমাদের পানির ন্যায্য হিস্যা বুঝে নিতে চাই। আমরা অবশ্যই ভারতকে বন্ধু হিসেবে দেখতে চাই। সেটা হতে হবে সম্মানের সাথে, আমার যে পাওনা সেটা আমাকে বুঝিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে।
তিনি বলেন, ‘আমরা ভারতকে পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, আমাদের সঙ্গে বড় দাদার মতো আচরণ বন্ধ করেন। আগেও বলেছি, এখনো বলছি, বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে যদি বন্ধুত্ব করতে চান, তাহলে আগে তিস্তার পানি দেন। সীমান্তে গুলি করে হত্যা এবং আমাদের সঙ্গে বড় দাদার মতো আচরণ বন্ধ করেন।’
মির্জা ফখরুল আজ সোমবার রংপুর ও লালমনিরহাট জেলার মাঝখানে তিস্তা রেলওয়ে সেতু সংলগ্ন চরে ‘তিস্তা নদী রক্ষা কমিটি’র উদ্যোগে ‘তিস্তা রক্ষা ও মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের’ দাবিতে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
‘জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ সোমবার একই সাথে উত্তরাঞ্চলীয় লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার ১১টি স্থানে স্থানীয় বিএনপি’র উদ্যোগে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়াও পদযাত্রা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খেলার প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ‘তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটি।’
দু’দিনের এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি আগামীকাল মঙ্গলবার কর্মসূচির শেষ দিনে সমাপনী বক্তব্য রাখবেন।
কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিস্তার চরে মঞ্চ তৈরি, খাবার ব্যবস্থা, তাঁবু টানিয়ে রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সমাবেশে শিক্ষার্থী, কৃষক, মৎস্যজীবী, পরিবেশকর্মী, শিক্ষক, চিকিৎসক থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত হয়েছেন। তারা ভারতের কাছ থেকে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করা এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আজকে যে আন্দোলন শুরু হলো, এটা আমরা শেষ পর্যন্ত নিয়ে যাব। মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ফারাক্কা অভিমুখে মার্চ করেছিলেন গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা পাওয়ার জন্য।’





