২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
বিগত সরকারের আমলে বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের কথাও জানান।
সংসদের অধিবেশনে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই এই তথ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারি তথ্যমতে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সময়কালে দেশ থেকে গড়ে প্রতি বছর প্রায় ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে পাচার হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৮ লাখ কোটি টাকা। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই বিপুল অর্থ দেশের উন্নয়ন, অবকাঠামো এবং সামাজিক খাতে বিনিয়োগ হলে অর্থনৈতিক চিত্র ভিন্ন হতে পারত।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, পাচার হওয়া অর্থ বিভিন্ন দেশে স্থানান্তরিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে এসব অর্থ পুনরুদ্ধার একটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। তিনি জানান, এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অর্থপাচার শুধু অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করে না, বরং এটি আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা ও সুশাসনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। দীর্ঘমেয়াদে এটি বিনিয়োগ পরিবেশকে দুর্বল করে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
এদিকে, রাজনৈতিক মহলেও এই তথ্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ এটিকে অতীত সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন, এই পরিসংখ্যানের নির্ভরযোগ্যতা ও যাচাই প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলা প্রয়োজন। তবে সরকার বলছে, শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতেই এই হিসাব করা হয়েছে।
অর্থপাচার রোধে ইতোমধ্যে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থার কার্যক্রম জোরদার, ব্যাংকিং খাতে নজরদারি বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি।
বিশ্লেষকদের মতে, পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধ করাও সমান জরুরি। এজন্য প্রয়োজন শক্তিশালী নীতি, কঠোর নজরদারি এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা।





