জীবনযাপন

১০ বছর বয়সী এই বালিকার আইকিউ পরীক্ষার স্কোর ১৬৩

১০ বছর বয়সী এই বালিকার আইকিউ পরীক্ষার স্কোর ১৬৩

মানুষের বুদ্ধির পরিমাপ করা হয় ইন্টেলিজেন্স কোশেন্ট বা আইকিউয়ের মাধ্যমে। সব মানুষের আইকিউ সমান হয় না। স্বাভাবিকভাবেই ধারণা করা যায় অ্যালবার্ট আইনস্টাইন, আইজাক নিউটনের মতো বিজ্ঞানীদের আইকিউ অনেকটা বেশি। তবে আট বছর বয়সী মেক্সিকো সিটির আধারা পেরেজ বুদ্ধির পরিমাপে ছাড়িয়ে গেছেন অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের মতো বিজ্ঞানীকেও। ১০ বছর বয়সী এই বিস্ময় বালিকার আইকিউ পরীক্ষার স্কোর ১৬৩। বিশ্ব বিখ্যাত প্রতিভা অ্যালবার্ট আইনস্টাইন এবং স্টিফেন হকিংয়ের তুলনায় এই ছোট্ট মেয়েটির আই-কিউ ৩ নম্বর বেশি।

৩ বছর বয়সে পেরেজের অ্যাসপারগার সিন্ড্রোম ধরা পড়ে। বিকাশজনিত ব্যাধি সৃষ্টিকারী অটিজমের কারণে তার সামাজিক মিথস্ক্রিয়ায় অসুবিধা হতে থাকে। যার কারণে আধারা পেরেজ স্কুলে উপহাসের স্বীকার হতে থাকে।

পেরেজ তার স্কুলের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলে, সহপাঠীরা সবসময় তাকে ঠাট্রা ও হাসাহাসির পাত্রী বানাতো। তাকে কোণঠাসা করে বিজোড় ও অস্বাভাবিক নামে ডাকতো।

আরও পড়ুনঃ পকেটে নিয়েই ঘোরা যাবে এ সি

আধারার মা ন্যালি সানচেজ বলেন, আমার ছোট্ট মেয়েটি একটি বাড়ির ভেতর খেলছে, তারা (সহপাঠীরা) বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দিয়ে অস্বাভাবিক বলে চিৎকার করতে থাকলো এবং ঢিল ছুঁড়তে লাগলো। তখন আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, আমি চাই না আধারার আর এমন কষ্ট হোক!

সানচেজের মতে, পেরেজ গভীর হতাশায় পড়ে যায়। সে স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। যার কারণে,শিক্ষকরা বলেছিলেন আগ্রহের অভাবে পেরেজ ক্লাসে ঘুমিয়ে পড়তো। তবে মেয়ের অস্বাভাবিকতা সম্পর্কে সচেতন ছিলেন তিনি। বুঝতে পারেন, বর্তমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি আধারার জন্য উপযুক্ত নয়। তখন তিনি পেরেজকে থেরাপি দিতে নিয়ে যায়।

সেখানেই শিশুটির উচ্চ আইকিউ শনাক্ত করা হয়। শিশুটি তার মেধা উপযোগী ভালো একটি শিক্ষার পরিবেশ পায়। এরপর আধারা সেখানে তার দক্ষতা অনুযায়ী খাপ খাইয়ে নিতে পারে।

পেরেজ তার ৫ বছর বয়সে প্রাইমারি শিক্ষা গ্রহণ করে। এরপর ৬ বছর বয়সে মাধ্যমিক শিক্ষা এবং ৮ বছর বয়সে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে। বর্তমানে সে অনলাইনে দুটি ডিগ্রি অর্জনের জন্য অধ্যয়নরত। যার একটি গণিত বিষয়ে ইন্ড্রাস্টিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এবং অন্যটি সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উপর।

আধারা একটি নতুন স্মার্ট ব্রেসলেট আবিষ্কার করছে। যা ছেলে-মেয়েদের আবেগ পর্যবেক্ষণ করতে পারবে এবং খিচুনিসহ অন্যান্য আক্রমণাত্মক রোগ শনাক্ত ও প্রতিরোধ করতে সক্ষম হবে।

অসামান্য মেধাবী এই শিশুটি তার অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বই লিখেছে, যেটি ডু নট গিভআপ নামে অনুবাদ করা হয়েছে। এ ছাড়াও সে ফোর্বস ১০০ মেক্সিকান শক্তিশালী নারীর তালিকাতেও জায়গা করে নিয়েছে।

রিপোর্টার

About Author

1 Comment

  1. ‘ভাইয়া বলে ডাকবেন না’ - tathyasangjog

    September 30, 2022

    […] আরও পড়ুনঃ ১০ বছর বয়সী এই বালিকার আইকিউ পরীক্ষার… […]

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জীবনযাপন ফিচার ভ্রমণ

প্যালেস সাজাতে খরচ প্রায় ২৪০ কোটি টাকা

আলেকজান্ডার প্যালেস। বন্ধ থাকা প্রাসাদটি খুলে দিতে সাজানোর জন্য খরচ করতে হয়েছে ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার (প্রায় ২৪০ কোটি
জীবনযাপন

পাটে বস্তা ব্যবহার নিশ্চিতে অভিযান

বর্তমান সরকার পাট পণ্যের অভ্যন্তরীণ ব্যবহার এর লক্ষ্যে “পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০”  বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। এই আইনের