হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৪ শিশুর মৃত্যু
দেশে হঠাৎ করেই উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে হামের প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪টি শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা জনমনে তীব্র আতঙ্ক তৈরি করেছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ১৭৪টি শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। আজ শুক্রবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ সেল থেকে প্রকাশিত এক জরুরি প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে আসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ে টিকাদান ও সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দিচ্ছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আক্রান্তের সংখ্যা গত কয়েকদিনের তুলনায় আজ অনেক বেশি। চিকিৎসকদের মতে, আবহাওয়া পরিবর্তন এবং শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে ভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে যেসব শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ পড়েছে, তারাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। হাসপাতালগুলোতে এখন হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর ভিড় ক্রমেই বাড়ছে।
সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে দেশের সবকটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো শিশু টিকার আওতা থেকে বাদ না পড়ে। যদি কোনো শিশুর শরীরে উচ্চ তাপমাত্রা, সর্দি, কাশি এবং চামড়ায় লালচে র্যাশ বা দানার মতো হামের উপসর্গ দেখা দেয়, তবে তাকে অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। আক্রান্ত শিশুর হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এই ভাইরাস বাতাসে ছড়ায় এবং অন্য শিশুদের সংক্রমিত করে। তাই লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার সাথে সাথেই আক্রান্ত শিশুকে পরিবারের অন্য সদস্যদের থেকে আলাদা বা আইসোলেশনে রাখতে হবে। পর্যাপ্ত তরল খাবার, মায়ের বুকের দুধ (শিশুর বয়স ২ বছরের কম হলে) এবং পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক বা ওষুধ খাওয়ানো যাবে না।





