সৌদিকে কড়া বার্তা, প্রয়োজনে বন্ধ হবে কৌশলগত দুই প্রণালি
সৌদি আরবের সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ দুই নৌপথ, হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মানদেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইয়েমেনের হুথি আন্দোলন। তাদের দাবি, ইয়েমেনের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা অব্যাহত থাকলে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, যার প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
হুথি আন্দোলনের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-ফারাহ এক বিবৃতিতে বলেন, ইয়েমেনের ওপর সামরিক চাপ বৃদ্ধি পেলে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল সীমিত বা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তার ভাষ্য, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সৌদি আরব যদি ইয়েমেনে সামরিক অভিযান চালিয়ে যায়, তাহলে তার জবাব দিতে হুথি বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজন হলে সৌদি ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোরও ইঙ্গিত দেন তিনি।
এদিকে ইয়েমেনের সুপ্রিম পলিটিক্যাল কাউন্সিলের সদস্য মোহাম্মদ আলী আল-হুথি সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের শামিল। একই সঙ্গে এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবকে দায়ী করে তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ আঞ্চলিক সংকটকে আরও গভীর করছে।
আনসারুল্লাহর আরেক নেতা আলী আল-কাহুমও কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের ওপর চলা অবরোধ ও সামরিক চাপের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, সামরিক উত্তেজনা বাড়ানো হলে তার পরিণতির দায় সংশ্লিষ্ট পক্ষকেই বহন করতে হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ ও বাব আল-মানদেব বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হওয়ায় এসব এলাকায় অস্থিতিশীলতা দেখা দিলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।





