“মশা না কমলে ডেঙ্গুতে মৃত্যু কমবে না”
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, মশা যে পর্যন্ত না কমবে সে পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগী কমবে না এবং মৃত্যুও কমবে না। কমাতে হলে সবাই মিলে আমাদের কাজ করতে হবে। আমরা সেই চেষ্টাই করছি।
সোমবার সচিবালয়ে চীনের সিনোভ্যাক্স ফাউন্ডেশনের দেওয়া ডেঙ্গুর ২০ হাজার টেস্টিং কিট হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, শুধু যে মৌসুমে ডেঙ্গু দেখা দিচ্ছে, তখনই কেবল স্প্রে করলাম, সারাবছর স্প্রে করলাম না, তাতে কাজ হবে না। সেজন্য সারাবছর কাজ করতে হবে। যে ওষুধ দেওয়া হচ্ছে, সেটা সঠিক মান ও পরিমাণের হতে হবে, যাতে ওষুধগুলো কার্যকর হয়ে মশা মারা যাবে।
তিনি বলেন, এরই মধ্যে সিটি করপোরেশনে ডেঙ্গু কিছুটা কমেছে। আমরা দেখেছি অন্য জেলায় অনেক বেড়েছে। আগে যা ছিল তা প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছেছে। সবগুলো জেলায় বাড়তি এবং প্রত্যেক জেলায় পরীক্ষা করে দেখা গেছে ডেঙ্গুর লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। যারা আক্রান্ত হয়েছে বেশিরভাগই ঢাকা থেকে যারা গেছে তারা আক্রান্ত হয়ে অন্য জেলায় গেছে, বাড়ি গেছে। সেখানে আবারও মশার কামড়ে সেটা ছড়িয়েছে।
জাহিদ মালেক বলেন, মশা যে পর্যন্ত না কমবে সে পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগী কমবে না এবং মৃত্যুও কমবে না। কমাতে হলে সবাই মিলে আমাদের কাজ করতে হবে। আমরা সেই চেষ্টাই করছি।
তিনি বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি ডেঙ্গুটা বেশরিভাগই বড় বড় বিল্ডিংয়ের নিচে, আশপাশের ড্রেন-নালা এবং পরিত্যক্ত বিভিন্ন পাত্রে জমা হয়েছে। বেশিরভাগ দেখা গেছে ফুলের টবে আছে। এসব জায়গা পরিষ্কার হওয়া দরকার এবং পরিত্যক্ত পাত্রগুলো পরিষ্কার করা দরকার। আমাদের নিজেদের বাড়ি যেটা আছে সেটা স্প্রে করতে হবে, পরিষ্কার করতে হবে। বাইরের যেসব ডোবা-নালা আছে সেটা সিটি করপোরেশন পরিষ্কার করছে, আমরা মনে করি আরও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, যে সব কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে সে কীটনাশকগুলো যাতে ইফেকটিভ হয়, ভালো হয় এবং মশা যাতে মরে, মশার লার্ভা যাতে মরে সেই ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা দরকার এবং নিশ্চিত হওয়া দরকার। ঢাকা সিটি করপোরেশনে ওনারা করছেন, কমছে। তাতে বোঝা যায়, যে মশা কমে আসছে। রোগীর সংখ্যা এখন একটু কমে আসছে। অন্যান্য জেলাতে স্প্রে বেশি করে করতে হবে। পৌরসভা এবং অন্যান্য সিটি করপোরেশনে সজাগ হতে হবে, আরও বেশি একটিভ হতে হবে। তবেই আমাদের কমবে।
রোববার (৩ সেপ্টেম্বর) একটা পরিসংখ্যান আমাদের দেওয়া হয়েছে। প্রায় ২৬০০ রোগী হাসপাতালে পেয়েছি সেটা অনেক এবং মোট রোগীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৮০০। প্রায় নয় হাজার রোগী এখন হাসপাতালে আছে। এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৬৩৪ জনের। যেটা গত কয়েক বছরের রেকর্ড। মৃত্যুটা আরও বেশি হচ্ছে, এ বিষয়ে আমরা বলতে চাই যে অনেক সময় চিকিৎসা নিতে দেরি হচ্ছে। দেরি হলে চিকিৎসা দিয়ে বাঁচানো কঠিন হয়ে যায়। সে জন্য জ্বর হলেই ডেঙ্গু টেস্ট করে নেন। দ্রুত হাসপাতালে আসেন- বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুনঃ “আমাদের লক্ষ্য দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করা”





