বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য মালয়েশিয়ায় নতুন দিগন্ত: ড. ইউনূসের সফরে গ্র্যাজুয়েট প্লাস ভিসার সম্ভাবনা
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগের পথ খুলে গেছে। মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ‘গ্র্যাজুয়েট প্লাস’ ভিসা চালুর বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে, যা দেশটির উচ্চ-দক্ষ শ্রমবাজারে তাদের প্রবেশের সুযোগ তৈরি করবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মালয়েশিয়ায় পড়াশোনারত হাজার হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী উপকৃত হবেন।
বুধবার (১৩ আগস্ট ২০২৫) কুয়ালালামপুরে ইউনিভার্সিটি কেবাংসান মালয়েশিয়ায় দেশটির উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জামব্রি আবদুল কাদিরের সঙ্গে এক বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বৈঠকের পর বাংলাদেশের আইন, বিচার ও প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের জানান, “মালয়েশিয়ার উচ্চ শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। তিনি মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গ্র্যাজুয়েট প্লাস ভিসা প্রবর্তনের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন। তবে, এই ভিসা কার্যকর করার আগে কিছু আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।” এই ভিসা চালু হলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীদের মতোই কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন। বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছেন, কিন্তু তাদের অনেকেই কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত।
একই দিনে অধ্যাপক ইউনূস মালয়েশিয়ার শিক্ষামন্ত্রী ফাধলিনা বিনতে সিদেকের সঙ্গে আরেকটি বৈঠকে মিলিত হন। এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে শিক্ষাগত সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। আলোচনায় মালয়েশিয়ার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা বাড়ানো, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময় কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশি ডিগ্রির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির বিষয়গুলো বিশেষভাবে উঠে আসে।
অধ্যাপক ইউনূস মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের কাছে বাংলাদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ডিগ্রিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার অনুরোধ জানান, যা দুই দেশের শিক্ষাগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।
বৈঠকে মালয়েশিয়ার শিক্ষামন্ত্রী ফাধলিনা অধ্যাপক ইউনূসের ‘থ্রি জিরো’ ক্যাম্পেইন—দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার উদ্যোগ—নিয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। অধ্যাপক ইউনূস এই প্রসঙ্গে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান, একটি আত্ম-ধ্বংসাত্মক সভ্যতার পরিবর্তে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব সভ্যতা গড়ে তুলতে একযোগে কাজ করতে।
বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং এসডিজি বিষয়ক জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোরশেদসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অধ্যাপক ইউনূস মালয়েশিয়ার শিক্ষামন্ত্রীকে দুই দেশের শিক্ষাগত সম্পর্ক আরও জোরদার করতে শিগগিরই ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানান।
এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে শিক্ষাগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। গ্র্যাজুয়েট প্লাস ভিসা চালু হলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা মালয়েশিয়ায় পড়াশোনা শেষে সেখানকার শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবেন, যা তাদের ক্যারিয়ার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময় এবং বৃত্তির সুযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হবে।





