ফের বাড়লো জ্বালানি তেলের দাম!
বিশ্ববাজারের অস্থিরতার দোহাই দিয়ে দেশে আবারও বাড়ানো হলো জ্বালানি তেলের দাম। মে মাসে দাম অপরিবর্তিত রাখার স্বস্তি কাটিয়ে আজ রোববার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে জুন মাসের জন্য তিন ধরনের জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আজ রাত ১২টা থেকেই নতুন এই বর্ধিত মূল্য দেশজুড়ে কার্যকর হবে, যা সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও জীবনযাত্রার ব্যয়ে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করবে।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং যুদ্ধাবস্থার জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ চেইন ওলটপালট হয়ে গেছে। অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতনের কোনো লক্ষণ না থাকায় এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। এর আগে গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে এক দফায় তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল। মে মাসে নতুন করে দাম না বাড়িয়ে পরিস্থিতি কিছুটা পর্যবেক্ষণ করা হলেও, শেষ পর্যন্ত জুনের শুরুতেই দাম বাড়ানোর পথে হাঁটতে বাধ্য হলো সরকার।
ভোক্তা পর্যায়ে নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, গণপরিবহন ও কৃষিকাজে বহুল ব্যবহৃত ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১১৫ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক। তবে মধ্যবিত্তের নিত্যব্যবহার্য পেট্রল ও অকটেনের দাম লিটারে ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। একই হারে বেড়েছে খেটে খাওয়া মানুষের জ্বালানি হিসেবে পরিচিত কেরোসিনের দামও। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দেশের বাজারের স্বয়ংক্রিয় মূল্য সমন্বয়ের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দামের তারতম্য কমাতে এই সমন্বয় জরুরি হলেও, এর টাইমিং বা সময় নির্বাচন সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে বাজেট ঘোষণার প্রাক্কালে এই মূল্যবৃদ্ধি বাজারে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও উসকে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের নতুন মূল্যতালিকা একনজরে
-
ডিজেল: প্রতি লিটার ১১৫ টাকা (আগের দামেই অপরিবর্তিত রয়েছে)।
-
কেরোসিন: প্রতি লিটার ১৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে (বৃদ্ধি ৫ টাকা)।
-
পেট্রল: প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪ pocket বা ১৪০ টাকা করা হয়েছে (বৃদ্ধি ৫ টাকা)।
-
অকটেন: প্রতি লিটার ১৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে (বৃদ্ধি ৫ টাকা)।
-
কার্যকরী সময়: ৩১ মে দিবাগত রাত অর্থাৎ ১ জুন ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের প্রথম প্রহর (রাত ১২টা) থেকে এই দাম কার্যকর।
জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি কেবল পাম্পের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, এর একটি মনস্তাত্ত্বিক ও বাস্তব প্রভাব পড়বে পুরো চেইন লাইনে। যদিও ডিজেলের দাম বাড়েনি, তবুও পেট্রল ও অকটেনের দাম বাড়ায় ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল ও রাইড শেয়ারিং সেবার খরচ তাৎক্ষণিকভাবে বেড়ে যাবে। দেশের লাখ লাখ মধ্যবিত্ত ও তরুণ পেশাজীবী যারা যাতায়াতের জন্য মোটরসাইকেলের ওপর নির্ভরশীল, তাদের পকেট থেকে এখন বাড়তি টাকা খসবে।
অন্যদিকে, কেরোসিনের দাম বাড়ায় গ্রামীণ অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষ, যারা এখনো আলোর জন্য বা রান্নার কাজে এই তেল ব্যবহার করেন, তারা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ডিজেলের দাম না বাড়ার অজুহাতে পরিবহন মালিকরা পার পেয়ে গেলেও, পরোক্ষভাবে পণ্য পরিবহন ও নিত্যপণ্যের বাজারে এক ধরনের কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যেতে পারে। সরকারের উচিত হবে এই সুযোগে বাজারে যাতে কোনো অসাধু চক্র কারসাজি করতে না পারে, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা।





