পিরোজপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থা সংস্কারে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশ
সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও নির্বিঘ্ন করতে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ করে পিরোজপুরসহ দেশের অবহেলিত ও জরাজীর্ণ সড়কগুলোকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংস্কার করে জনভোগান্তি লাঘবের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
সচিবালয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্বকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সড়ক নেটওয়ার্কের বর্তমান চিত্র এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থার মান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো অজুহাতেই দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে স্থবির হতে দেওয়া যাবে না। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় নির্মিত রাস্তা কেন বেহাল পড়ে থাকবে, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।
পিরোজপুরের জন্য বিশেষ গুরুত্ব
বৈঠকের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল পিরোজপুর জেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে বাস্তবায়িত ও চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ব্যবচ্ছেদ। পিরোজপুরের মতো উপকূলীয় জেলার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো দীর্ঘদিনের অবহেলা ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন যেন পিরোজপুরের সড়কগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মেরামত করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পিরোজপুরের সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াত সংকটে ভুগছে। পণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক চলাচল—সবখানেই স্থবিরতা দেখা দিচ্ছে। আমাদের সরকার এই ভোগান্তি আর দীর্ঘায়িত হতে দেবে না।” তিনি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে পিরোজপুরকে একটি নিরবচ্ছিন্ন সড়ক নেটওয়ার্কের আওতায় আনার জন্য এলজিইডি-কে সময়সীমা বেঁধে দেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে ছিল কঠোর হুঁশিয়ারি। তিনি জানান, দেশের যেসব সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে পড়ে আছে, সেগুলোর তালিকা করে দ্রুত কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। কাজের মান নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।
নির্মাণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার বা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিতও দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, কেবল বড় মহাসড়ক নয়, বরং গ্রামীণ জনপদের সংযোগ সড়কগুলো সচল রাখা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। কারণ গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করতে হলে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই।
তারেক রহমানের এই সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেশের যোগাযোগ খাতে নতুন গতির সঞ্চার করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। পিরোজপুরের বাসিন্দারা প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগে নতুন করে আশার আলো দেখছেন। দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দে ভরা রাস্তায় চলাচলকারী এই জনপদের মানুষের জন্য এটি এক বড় স্বস্তি।
এখন দেখার বিষয়, প্রধানমন্ত্রীর এই কড়া নির্দেশের পর মাঠ পর্যায়ে এলজিইডি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কতটা দ্রুততার সাথে কাজ শুরু করে।





