‘তোমরাই বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর, তোমাকেই নিতে হবে দেশের দায়িত্ব’
শনিবার বিকেলে সিলেটের আকাশ যখন গোধূলির রঙে রাঙানো, ঠিক তখনই সিলেট স্টেডিয়ামের গ্যালারি প্রকম্পিত হলো হাজারো ক্ষুদে শিক্ষার্থীর করতালিতে। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ এর বর্ণাঢ্য আয়োজনে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষার্থীদের আগামীর যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।
তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, আজকের এই শিশুরাই আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক ও বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের যোগ্য প্রতিনিধি বা ‘অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে নিজেদের তুলে ধরবে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি শারীরিক কসরত ও খেলাধুলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “আমি আজ তোমাদের চোখের দিকে তাকিয়ে এক উজ্জ্বল বাংলাদেশ দেখতে পাচ্ছি। গ্যালারিতে বসে থাকা প্রতিটি মুখ একেকটি সম্ভাবনা। মনে রাখবে, তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ। এই দেশের মানচিত্র রক্ষা এবং সমৃদ্ধির দায়িত্ব একদিন তোমাদের কাঁধেই বর্তাবে।”
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে শিশুদের আত্মবিশ্বাসী হওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, পুঁথিগত বিদ্যার বাইরেও খেলাধুলা মানুষের মন ও শরীরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে। নেতৃত্ব দেওয়ার গুণাবলি অর্জনে মাঠের লড়াই এবং ক্লাসরুমের পড়াশোনার মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি।
সাংস্কৃতিক আবহে ‘নতুন কুঁড়ি’র পথচলা
অনুষ্ঠানের শুরুতেই ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে একটি তথ্যবহুল প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। যেখানে তুলে ধরা হয় তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণের একটি রূপরেখা। এরপর স্টেডিয়ামের বিশাল সাউন্ড সিস্টেমে বেজে ওঠে অনুষ্ঠানের থিম সং— ‘আমরা নতুন, আমরা কুঁড়ি’। গানের সুর আর তালের সাথে স্টেডিয়ামে উপস্থিত কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর উচ্ছ্বাস এক ভিন্ন মাত্রার আবহ তৈরি করে।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই সিলেট সফর এবং সরাসরি শিশুদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এই বক্তব্য দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে। বিশেষ করে বিভাগীয় পর্যায়ে এ ধরনের আয়োজন মেধাবীদের মূল স্রোতে নিয়ে আসতে বড় ভূমিকা রাখবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই আহ্বানের পেছনে এক গভীর রাজনৈতিক ও সামাজিক দর্শন রয়েছে বলে মনে করছেন সমাজবিজ্ঞানীরা। সাধারণত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রশাসনিক জটিলতার কথা বেশি শোনা গেলেও, আজকের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি কোমলমতি শিশুদের সম্বোধন করেছেন। তিনি শিশুদের কেবল শিক্ষার্থী হিসেবে নয়, বরং আগামীর ‘দায়িত্বশীল অভিভাবক’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
তিনি আরও যোগ করেন, সরকার দেশের প্রতিটি উপজেলায় খেলাধুলার আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর। প্রতিটি শিশু যাতে তার মেধা প্রকাশের পর্যাপ্ত সুযোগ পায়, সেটি নিশ্চিত করাই এই সরকারের মূল লক্ষ্য।
সিলেট স্টেডিয়ামের এই আয়োজন কেবল একটি ক্রীড়া অনুষ্ঠান ছিল না, বরং এটি ছিল আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের একটি অঙ্গীকার। প্রধানমন্ত্রী যখন বলেন— ‘বাংলাদেশের দায়িত্ব তোমাদেরকেই নিতে হবে’, তখন তা কেবল একটি বাক্য থাকে না, বরং তা হয়ে ওঠে এক বিশাল জাতীয় আকাঙ্ক্ষা।





