জাতীয় দেশ সংযোগ রাজনীতি শীর্ষ তিন

ঢাবিতে বড় সিদ্ধান্ত: হলের মূল নামফলকে ফিরছে ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের মূল প্রবেশদ্বারের নামফলক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতির গতিপ্রকৃতি ও campus সংস্কারের ধারাবাহিকতায় আবাসিক হলের প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় পুনর্নির্ধারণে একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, হলের নামফলকে আবারও ফিরিয়ে আনা হচ্ছে ঐতিহাসিক শেখ মুজিবুর রহমান হল নামটি। বিগত রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থাপনা ও হলের নামফলক থেকে এই নামটি আংশিক বা পূর্ণাঙ্গভাবে মুছে ফেলার এক ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত তৎপরতা দেখা গিয়েছিল। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক নথিপত্রের আইনি জটিলতা এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট এই পুরোনো প্রশাসনিক নামটি পুনর্বহাল করার চূড়ান্ত নির্দেশনা জারি করেছে।
মূল হাইলাইটস
    • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের মূল ফটকের নামফলকে প্রাতিষ্ঠানিক নাম সগৌরবে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ।
    • বিগত ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পরবর্তী সময়ে তৈরি হওয়া প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা নিরসনে সিন্ডিকেটের জরুরি বৈঠক।
    • ক্যাম্পাসে সব ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা জোরদার করার নতুন রূপরেখা।
    • উপাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রক্টর ও হল প্রাধ্যক্ষদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশ প্রদান।

ঢাবি প্রশাসনের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ও আইনি প্রক্রিয়া
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সব সময়ই বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে আসছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। সেই সময় উত্তাল ছাত্র আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কিছু অতিউৎসাহী গোষ্ঠী হলের প্রধান প্রবেশদ্বারের নামফলক কালির প্রলেপ দিয়ে ঢেকে দিয়েছিল। এই ঘটনার পর থেকে হলের প্রশাসনিক নথিপত্র, প্রাতিষ্ঠানিক চিঠিপত্র এবং ব্যাংকিং কার্যক্রমে এক ধরনের অললিখিত জটিলতা তৈরি হয়। কারণ আইনিভাবে হলের মূল নাম পরিবর্তন না করে শুধু ফলক মুছে ফেলা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
এই আইনি স্থবিরতা কাটাতে এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সিন্ডিকেট সদস্যরা এক জরুরি সভায় বসেন। সভায় সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, কোনো আবেগ বা ক্ষণস্থায়ী রাজনৈতিক মেরুকরণের বশে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ঐতিহ্য ও আইনি কাঠামোকে নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। সেই আলোকেই শেখ মুজিবুর রহমান হল নামটি পুনরায় তার মূল স্বকীয়তায় দৃশ্যমান করার আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করা হলো। উপাচার্য স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়নের জায়গা নয়; এখানে নিয়মতান্ত্রিক আইনি প্রক্রিয়াই শেষ কথা।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই বাস্তবমুখী সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থী ও সচেতন শিক্ষক সমাজ। অনেক শিক্ষার্থীর মতে, হলের নামফলক নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি করার কারণে সাধারণ আবাসিক ছাত্রদের ডাইনিং ও হলের অন্যান্য নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ব্যাহত হচ্ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “ইতিহাসের চরিত্রদের মূল্যায়ন ইতিহাস করবে, কিন্তু একটি রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে তার আইনি বিধিবিধান মেনেই চলতে হবে।” নামফলক পুনঃস্থাপনের এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র (ID Card) ও হলের সনদে থাকা আইনি জটিলতা চিরতরে দূর হলো।
বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে সম্পূর্ণ বহিরাগতমুক্ত রাখার এবং ছাত্রদের মেধার ভিত্তিতে সিট বণ্টনের যে নতুন সংস্কার প্রক্রিয়া চলছে, তার সাথে এই সিদ্ধান্তটি বেশ সংগতিপূর্ণ। প্রক্টর অফিস থেকে জানানো হয়েছে, নামফলক পুনঃস্থাপনের সময় যেন ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা উসকানিমূলক স্লোগান না দেওয়া হয়, সে জন্য হল প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রহরী ও প্রক্টোরিয়াল টিমের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী যদি প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত অমান্য করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের মতো কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
উপাচার্যের কড়া বার্তা ও হলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ শান্ত রাখতে হল প্রাধ্যক্ষদের (Provost) সমন্বয়ে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি কেবল নামফলক তদারকিই করবে না, বরং হলের ভেতরের রিডিং রুম, লাইব্রেরি এবং খাবারের মান উন্নয়নে সরাসরি কাজ করবে। নতুন বাংলাদেশ গঠনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ঐতিহ্যগত অবদান, তা ধরে রাখতে হলে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করে প্রশাসন।
ক্যাম্পাস  জুড়ে স্বস্তি ও ক্লাস সচল রাখার প্রত্যয়
এই আদেশের পর হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে এক ধরনের দীর্ঘদিনের স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা চান সব ধরনের অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক পেছনে ফেলে নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষায় মনোযোগ দিতে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই হলের মূল ফটকে নতুন করে পলিশ করা ও চকচকে অক্ষরে লেখা নামফলকটি সবার সামনে উন্মোচিত হতে যাচ্ছে, যা ঢাবির ইতিহাসে আইনি সুশাসনের এক নতুন নজির তৈরি করবে।

মাসুম

About Author

I am a sarvent of Allah. I follow mohammad (sm) only. "La ilaha Illallahu Muhammadur rasulullah"

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
জাতীয়

সম্মেলন করে নির্বাচনি প্রচারণার নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের

সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। সিটি নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র