ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে যুক্ত হবে এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্কে
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবং সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ। তিনি বলেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে যেকোনো প্রতিবন্ধকতা দ্রুত দূর করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।
শুক্রবার বাইপাইলে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সচিব জানান, প্রকল্পের প্রায় ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ সার্ভিস লেনের নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি মাসের মধ্যেই দুটি সার্ভিস লেন যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
নির্মাণকাজ চলাকালে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং নির্মাণস্থলে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশও দেন তিনি।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত অংশে তুরাগ নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ অক্ষুণ্ন রেখেই এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে। জুন মাস পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৭১ দশমিক ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে, আর বাস্তব নির্মাণ অগ্রগতি হয়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশ। দ্রুতগতিতে কাজ চলায় চলতি মাসেই এক্সপ্রেসওয়ের কয়েকটি অংশ যান চলাচলের জন্য চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
২০২২ সালের ১২ নভেম্বর দেশের দ্বিতীয় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হিসেবে ঢাকা-আশুলিয়া প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়। রাজধানীর যানজট কমানো এবং ঢাকা থেকে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে দ্রুত সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করাই এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
প্রকল্পটির অর্থায়ন করা হচ্ছে চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের ঋণে এবং নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি)।
প্রকল্পের আওতায় ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পাশাপাশি ১০ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ১৪টি র্যাম্প নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া নবীনগরে ১ দশমিক ৯৫ কিলোমিটার ফ্লাইওভার, আশুলিয়া-ধউর বাঁধ সড়কে ২ দশমিক ৭২ কিলোমিটার সেতু, ১৪ দশমিক ২৮ কিলোমিটার সড়ক এবং ১৮ কিলোমিটার ড্রেনেজ ডাক্ট নির্মাণও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সরাসরি এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হবে। একই সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-জামালপুর, ঢাকা-মানিকগঞ্জ-তেঁতুলিয়া ও ঢাকা-মাওয়া-বরিশাল মহাসড়কের সঙ্গে সহজ সংযোগ তৈরি হবে। এতে দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার সক্ষমতা আরও বাড়বে। তবে এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারকারী যানবাহনকে নির্ধারিত হারে টোল পরিশোধ করতে হবে।





